ঢাকা, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ | ৯ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

রাউজানে ৩৬ ঘন্টার ব্যবধানে দুই খুন, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক

রাউজানে ৩৬ ঘন্টার ব্যবধানে দুই খুন, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক

চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে কাউছারুজ্জামান বাবলু নামের এক যুবক খুনের ৩৬ ঘন্টা পার না হতেই আবারো হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে রাউজানে। এবার এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে অস্ত্রধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছে যুবদল কর্মী নাছির উদ্দীন (৪৫)। রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে নয়টায় দিকে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমশের পাড়া গ্রামের পূর্ব পাশে আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি দোকানে আড্ডা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন নাছির উদ্দীন। এ সময় একদল অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তলপেট ও পায়ে একাধিক গুলি লাগার পর নাছির উদ্দীনের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাত ১২ টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নাছির উদ্দীন কদলপুর ইউনিয়নের এলাকার শমশের পাড়া গ্রামের মৃত দুদু মিয়ার পুত্র।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ সভাপতি সাবের সুলতান কাজল জানান, নাছির উদ্দীন যুবদলের রাজনীতিতে একজন সক্রিয় কর্মী ছিল। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা নাছির হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একটি কুচক্রীমহল দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে একের পর এক আমাদের কর্মীদের খুন করছে। খুনি যেই হউক তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় আমরা রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলব। গত ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপের ছুরিকাঘাতে মারাত্মক জখম হন নাছির উদ্দীন। সে যাত্রায় বেঁচে গেলেও ১৭ মাস পর পুনরায় দুর্বৃত্তের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন নাছির৷

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কদলপুর এলাকায় মাটি ও বালি ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন যুবদল কর্মী নাছির। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কদলপুর ইউনিয়নে একাধিক গুলিবিদ্ধের ঘটনা, খুন, হামলা, পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে আসছে। আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপের সাথে তার দীর্ঘ দিনের বিরোধ চলে আসছিল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, ঘটনার পরপরই আমি ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছি। হত্যাকান্ডের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

রাউজান থানা সূত্র জানায়, নিহত যুবদল কর্মী নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ রাউজান থানায় বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টি মামলা রয়েছে।

এদিকে ৩৬ ঘন্টার ব্যবধানে পরপর দুটি খুনের ঘটনায় পুরো এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আইলীখীল গ্রামে মুহাম্মদ কাউসার উজ জামান বাবলু (৩৬) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করে দুষ্কৃতকারীরা। ইতিমধ্যেই পুলিশী অভিযানে বাবলু হত্যা মামলার দুই আসামী গ্রেফতার হয়েছে। তবে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাউজানে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার, বালি,মাটি ব্যাবসার নিয়ন্ত্রণ সহ ২৩টি হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তিনটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ৩৬ ঘন্টার ব্যাবধানে রাউজান পৌর সভার আলীখিল ও কদলপুর ইউনিয়নে অস্ত্রধারীদের গুলিতে পরপর দুটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। ধারাবাহিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এলাকার মাটি ও বালি ব্যাবসার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গ্রুপে গ্রুপে সংঘাত, সংঘর্ষের বলি হয়ে একের পর এক মায়ের বুক খালি হলেও কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছেনা রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ রাউজানে যৌথ বাহিনীর সাড়াশি অভিযানের পর এলাকার উত্তপ্ত পরিস্থিতি কিছুদিন শান্ত থাকলেও ফের একের পর হত্যাকান্ডে আবারো রাউজানের জনপদে বিরাজ করছে উদ্বেগ আর আতংক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাউজানের সন্ত্রাস কবলিত এলাকাসমূহে যৌথ বাহিনীর সাড়াশি অভিযানের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সচেতন মহল।