ঢাকা, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ | ৯ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

এবার দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা তনু হত্যাকাণ্ডের রিপোর্ট দেওয়া চিকিৎসকের

এবার দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা তনু হত্যাকাণ্ডের রিপোর্ট দেওয়া চিকিৎসকের

সোহাগী জাহান তনু হত্যার দীর্ঘ ১১ বছর পর মামলার তদন্তে নতুন মোড় আসায় অন্যতম সন্দেহভাজন ডা. কামাদা প্রাসাদ সাহা দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের দাবি, ময়নাতদন্তে ভুল তথ্য দিয়ে খুনিদের আড়াল করার হোতা ডা. কামাদা বর্তমানে আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের (Asylum) পরিকল্পনা করছেন এবং এনওসি সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে তনুর লাশ উদ্ধারের পর প্রথম ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত টিমের প্রধান ছিলেন এই ডা. কামাদা প্রাসাদ সাহা। তনুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রথম রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ খুঁজে পাননি বলে উল্লেখ করেন। এমনকি দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ এড়িয়ে গিয়ে তনুর চরিত্র নিয়ে আপত্তিকর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যা তখন দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। ভিকটিম পরিবারের অভিযোগ, তিনি খুনিদের সঙ্গে আঁতাত করে ফরেনসিক রিপোর্ট পাল্টে দিয়েছিলেন।

ডা. কামাদা বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজের ট্রেজারার হিসেবে কর্মরত আছেন। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, "মামলাটি যখন আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে, তখনই তিনি পালানোর পথ খুঁজছেন। সরকার ও প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, অবিলম্বে তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হোক।" তিনি এ বিষয়ে আদালতে আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান।

বর্তমানে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় ডা. কামাদার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইর পুলিশ পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম গুরুত্বের সঙ্গে চলছে। এই হত্যাকাণ্ডে এবং তথ্য গোপনের চেষ্টায় যাঁদেরই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাঁদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হবে। সম্প্রতি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার পর এই মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এসএফ