শিরোনাম
বাড়তে পারে তাপমাত্রা, ৩ মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানালো অধিদপ্তর বুটেক্সের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেবে: শিক্ষামন্ত্রী আতিউর রহমানসহ ১৫ বছরের বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সদস্যদের নথি তলব দুদকের ৩৮ জেলায় নেই আইসিইউ, ৯০ শতাংশই ঢাকাকেন্দ্রিক: ডা. জুবাইদা রহমান গাঢ় নীল-হালকা জলপাই শার্ট ও খাকি প্যান্টে ফিরলো পুলিশ ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দিতে হবে: নাহিদ ইসলাম তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা ‘হালদা’ অনুমোদন দিয়েছে সরকার ২ লাখ কোটি টাকা ঘাটতি নিয়ে বাজেট পাস, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো যা বরাদ্দ পেলো গ্লোবাল টেলিভিশন সত্য ও সাহসের সঙ্গে আগামীতেও থাকবে: রুমিন ফারহানা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‌‌‌‌‌‌‌‘জাতীয় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন কমিটি’ গঠন নীতি সুদহার ১০ শতাংশ রেখেই নতুন অর্থবছরের প্রথম মুদ্রানীতি ঘোষণা সময় বাঁচাতে ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনা প্রত্যাহার বিরোধী দলের
বাড়তে পারে তাপমাত্রা, ৩ মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানালো অধিদপ্তর বুটেক্সের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেবে: শিক্ষামন্ত্রী আতিউর রহমানসহ ১৫ বছরের বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সদস্যদের নথি তলব দুদকের ৩৮ জেলায় নেই আইসিইউ, ৯০ শতাংশই ঢাকাকেন্দ্রিক: ডা. জুবাইদা রহমান গাঢ় নীল-হালকা জলপাই শার্ট ও খাকি প্যান্টে ফিরলো পুলিশ ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দিতে হবে: নাহিদ ইসলাম তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা ‘হালদা’ অনুমোদন দিয়েছে সরকার ২ লাখ কোটি টাকা ঘাটতি নিয়ে বাজেট পাস, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো যা বরাদ্দ পেলো গ্লোবাল টেলিভিশন সত্য ও সাহসের সঙ্গে আগামীতেও থাকবে: রুমিন ফারহানা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‌‌‌‌‌‌‌‘জাতীয় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন কমিটি’ গঠন নীতি সুদহার ১০ শতাংশ রেখেই নতুন অর্থবছরের প্রথম মুদ্রানীতি ঘোষণা সময় বাঁচাতে ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনা প্রত্যাহার বিরোধী দলের
১ জুলাই শুরু হয়েছিল আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন

১ জুলাই শুরু হয়েছিল আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন

আজ ১ জুলাই। ২০২৪ সালের আজকের এই দিনটিকে স্মরণ করা হয় আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের শুরু হিসেবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের ব্যানারে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের লক্ষ্যে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দিনটি শুরু হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত তা ফ্যাসিবাদবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। অবশ্য এর আগে থেকেই বিএনপির নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন গড়ে উঠায় বৃহত্তর আন্দোলনের একটি ক্ষেত্র প্রস্তুতই ছিল। এ আন্দোলনের প্রথমে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং পরবর্তীতে নেতৃত্ব দেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর তীব্র ছাত্রআন্দোলনের মুখে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে আওয়ামী লীগ সরকার। সরকারের জারি করা এই পরিপত্র ২০২৪ সালের ৫ জুন বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ অবৈধ ঘোষণা করে। এর বিরুদ্ধে পুনরায় কোটা পদ্ধতি সংস্কার আন্দোলন নতুনভাবে আলোচনায় আসে। রায় প্রত্যাখ্যান করে ওইদিন সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। পরদিন ৬ জুন বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়।ঘোষণা অনুযায়ী, ৬ জুন বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বড় বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। এই মিছিলোত্তর সমাবেশ থেকে আদালতের রায় মেনে না-নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। একই দিন কোটা বহালের রায়ের প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। একইভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরাও মাঠে নামেন। এমন পরিস্থিতিতে ৯ জুন হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর কিছুদিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হওয়ায় ২৯ জুন পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। ৩০ জুন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা না আসায় ১ জুলাই ঢাবি, জগন্নাথ, জাবি, রাবি, চবি (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), বরিশাল ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমে পড়েন। জাবির শিক্ষার্থীরা কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এরপর, ওই বছরেরই ১ জুলাই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আন্দোলন দ্রুতগতিতে সারাদেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সড়কে নেমে আসেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও। শান্তিপূর্ণ এ আন্দোলন দমাতে ব্যাপক দমনপীড়ন চালায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে আন্দোলন আরও তীব্রতর হয়। শাহবাগে অবস্থান নিয়ে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। সরকারের দমনপীড়ন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আন্দোলনে বাড়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ। আওয়ামী দুঃশাসনে বিক্ষুব্ধ মানুষ সমর্থন যোগায় আন্দোলনে। ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। ওইদিন চট্টগ্রামে শহীদ হন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। সারাদেশে আন্দোলন দাবানলের মতে জ্বলে ওঠে। জাতিসংঘের হিসেবে এরপরের প্রায় তিন সপ্তাহ গুলি করে শিশুসহ হত্যা করা হয় প্রায় ১৪০০ মানুষকে। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। সড়কে নামে শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনমুখী লাখো মানুষের ঢল। অবস্থা বেগতিক দেখে ওইদিন দুপুরে ভারতে পালিয়ে চলে যান শেখ হাসিনা। পতন হয় কর্তৃত্ববাদী এক শাসনের। গণভবন ও সংসদভবন দখলে নেয় ছাত্র-জনতা। পরে জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলার তদন্তে উঠে আসে, নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে মারণাস্ত্র ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এমনকি হেলিকপ্টার থেকে গুলি করারও নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে নগ্নভাবে ব্যবহারের প্রমাণও পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।কীভাবে জুলাই আন্দোলন শুরু হয় এবং এর বিস্তৃতি ঘটে- এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র (বর্তমানে এনসিপির আহ্বায়ক) নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, আন্দোলনের তিন দিনের মধ্যে ঈদের বন্ধ চলে আসে। বন্ধের আগে আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবর একটি স্মারকলিপি দিয়ে এসেছিলাম। প্রাথমিক দাবি ছিল যেন রায় স্থগিত করে পরিপত্র বহাল করা হয়। ঈদের বন্ধ থাকায় আমরা একটা আল্টিমেটাম দিই ৩০ জুন পর্যন্ত যাতে এ সময়ের মধ্যে সরকার একটা ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু আমাদের ধারণা ছিল, সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে না। এ কারণে আমরা এই সময়টাতে আন্দোলনের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নিজেদের সংগঠিত করি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ রায়ের বিরুদ্ধে এবং কোটা সংস্কারের পক্ষে আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুরসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমরা অনলাইনে মিটিং করি, ফেসবুকে ক্যাম্পেইন করি। আমরা সবার সঙ্গে একটা নেটওয়ার্ক স্থাপন করি। যখন আমরা দেখলাম সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কোনো কিছু করা হলো না, তখন ১ জুলাই আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে প্রথমবারের মতো কর্মসূচি পালন করি। এভাবেই শুরু হয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার দুর্দম আন্দোলন। অনেক প্রাণ আর ত্যাগের বিনিময়ে যা পরিপূর্ণতা পায় ২০২৪ সালের ৩৬ জুলাই অর্থাৎ ৫ আগস্ট।-এজেড

Jatiyo Section Head
১ জুলাই শুরু হয়েছিল আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন

১ জুলাই শুরু হয়েছিল আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন

আজ ১ জুলাই। ২০২৪ সালের আজকের এই দিনটিকে স্মরণ করা হয় আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের শুরু হিসেবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের ব্যানারে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের লক্ষ্যে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দিনটি শুরু হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত তা ফ্যাসিবাদবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। অবশ্য এর আগে থেকেই বিএনপির নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন গড়ে উঠায় বৃহত্তর আন্দোলনের একটি ক্ষেত্র প্রস্তুতই ছিল। এ আন্দোলনের প্রথমে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং পরবর্তীতে নেতৃত্ব দেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর তীব্র ছাত্রআন্দোলনের মুখে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে আওয়ামী লীগ সরকার। সরকারের জারি করা এই পরিপত্র ২০২৪ সালের ৫ জুন বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ অবৈধ ঘোষণা করে। এর বিরুদ্ধে পুনরায় কোটা পদ্ধতি সংস্কার আন্দোলন নতুনভাবে আলোচনায় আসে। রায় প্রত্যাখ্যান করে ওইদিন সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। পরদিন ৬ জুন বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়।ঘোষণা অনুযায়ী, ৬ জুন বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বড় বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। এই মিছিলোত্তর সমাবেশ থেকে আদালতের রায় মেনে না-নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। একই দিন কোটা বহালের রায়ের প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। একইভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরাও মাঠে নামেন। এমন পরিস্থিতিতে ৯ জুন হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর কিছুদিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হওয়ায় ২৯ জুন পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। ৩০ জুন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা না আসায় ১ জুলাই ঢাবি, জগন্নাথ, জাবি, রাবি, চবি (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), বরিশাল ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমে পড়েন। জাবির শিক্ষার্থীরা কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এরপর, ওই বছরেরই ১ জুলাই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আন্দোলন দ্রুতগতিতে সারাদেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সড়কে নেমে আসেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও। শান্তিপূর্ণ এ আন্দোলন দমাতে ব্যাপক দমনপীড়ন চালায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে আন্দোলন আরও তীব্রতর হয়। শাহবাগে অবস্থান নিয়ে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। সরকারের দমনপীড়ন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আন্দোলনে বাড়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ। আওয়ামী দুঃশাসনে বিক্ষুব্ধ মানুষ সমর্থন যোগায় আন্দোলনে। ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। ওইদিন চট্টগ্রামে শহীদ হন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। সারাদেশে আন্দোলন দাবানলের মতে জ্বলে ওঠে। জাতিসংঘের হিসেবে এরপরের প্রায় তিন সপ্তাহ গুলি করে শিশুসহ হত্যা করা হয় প্রায় ১৪০০ মানুষকে। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। সড়কে নামে শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনমুখী লাখো মানুষের ঢল। অবস্থা বেগতিক দেখে ওইদিন দুপুরে ভারতে পালিয়ে চলে যান শেখ হাসিনা। পতন হয় কর্তৃত্ববাদী এক শাসনের। গণভবন ও সংসদভবন দখলে নেয় ছাত্র-জনতা। পরে জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলার তদন্তে উঠে আসে, নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে মারণাস্ত্র ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এমনকি হেলিকপ্টার থেকে গুলি করারও নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে নগ্নভাবে ব্যবহারের প্রমাণও পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।কীভাবে জুলাই আন্দোলন শুরু হয় এবং এর বিস্তৃতি ঘটে- এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র (বর্তমানে এনসিপির আহ্বায়ক) নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, আন্দোলনের তিন দিনের মধ্যে ঈদের বন্ধ চলে আসে। বন্ধের আগে আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবর একটি স্মারকলিপি দিয়ে এসেছিলাম। প্রাথমিক দাবি ছিল যেন রায় স্থগিত করে পরিপত্র বহাল করা হয়। ঈদের বন্ধ থাকায় আমরা একটা আল্টিমেটাম দিই ৩০ জুন পর্যন্ত যাতে এ সময়ের মধ্যে সরকার একটা ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু আমাদের ধারণা ছিল, সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে না। এ কারণে আমরা এই সময়টাতে আন্দোলনের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নিজেদের সংগঠিত করি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ রায়ের বিরুদ্ধে এবং কোটা সংস্কারের পক্ষে আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুরসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমরা অনলাইনে মিটিং করি, ফেসবুকে ক্যাম্পেইন করি। আমরা সবার সঙ্গে একটা নেটওয়ার্ক স্থাপন করি। যখন আমরা দেখলাম সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কোনো কিছু করা হলো না, তখন ১ জুলাই আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে প্রথমবারের মতো কর্মসূচি পালন করি। এভাবেই শুরু হয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার দুর্দম আন্দোলন। অনেক প্রাণ আর ত্যাগের বিনিময়ে যা পরিপূর্ণতা পায় ২০২৪ সালের ৩৬ জুলাই অর্থাৎ ৫ আগস্ট।-এজেড

Hero TOP
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: খেলাফত মজলিসের ৩৬ দিনের কর্মসূচি পালন শুরু

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: খেলাফত মজলিসের ৩৬ দিনের কর্মসূচি পালন শুরু

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী ঘোষিত ৩৬ দিনের কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে খেলাফত মজলিস।আজ (১ জুলাই) বুধবার বাদ আসর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবি সম্বলিত লিফলেট বিতরণের মধ্য দিয়ে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখার কর্মসূচি উদ্বোধন করেন খেলাফত মজলিস মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মো. আব্দুল জলিল, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আজিজুল হক, নির্বাহী সদস্য হাজী নুর হোসেন, আলহাজ্ব আমির আলী হাওলাদার, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, মহানগরী দক্ষিণ সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল হোসেন প্রমুখ।এর আগে, আজ বাদ ফজর ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখার উদ্যোগে উত্তরায় শহীদ জাবের ইব্রাহীম, বিকাল ৪টায় শহীদ মীর মুগ্ধের কবর জেয়ারত ও শহীদদের মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাহাবুদ্দিন আহমদ খন্দকার, মহানগরী উত্তর সভাপতি মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক প্রিন্সিপাল মাওলানা আজিজুল হক প্রমুখ।উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন খেলাফত মজলিস মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের স্বাক্ষরিত এক সার্কুলারের মাধ্যমে শাখা সমূহে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের মাগফিরাত কামনায় দোয়া, আহতদের খোঁজখবর ও সম্ভাব্য সহযোগীতা, ফ্যাসিবাদী সরকার ও তার দোসরদের বিচার ত্বরান্বিত এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে মতবিনিময়, গণ-সংযোগ, গণ-জমায়েত ও মিছিল, দেয়ালিকা প্রকাশ ও আন্দোলনের ভিডিও প্রদর্শনী, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও রক্তদান কর্মসূচি প্রভৃতি।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে খেলাফত মজলিসের আহবান-গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।পতিত ফ্যাসিবাদী সরকার ও দোসরদের গণহত্যা, গুম, খুন ও দুর্নীতির দ্রুত বিচার করতে হবে।অবিলম্বে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের উন্নত চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।জুলাই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফ কর্তৃক সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের নামে বাংলাদেশ সীমান্তে বিশৃঙ্খলা বন্ধ করতে হবে।ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রুখে দিতে হবে।-এজেড

কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত ১,৩০৭ ছাড়ালো, মৃত্যু ৩৭৭

কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত ১,৩০৭ ছাড়ালো, মৃত্যু ৩৭৭

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ। দেশটিতে ১ হাজার ৩০৭ জনের শরীরে ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতুরি, উত্তর কিভু এবং দক্ষিণ কিভু প্রদেশে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। চতুর্থ আরেকটি প্রদেশেও সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।সংস্থাটির বরাত দিয়ে কঙ্গো ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিকেল রিসার্চের (আইএনআরবি) একটি সূত্র জানিয়েছে, ভাইরাসজনিত এই রক্তক্ষরণজনিত জ্বর ওত-উয়েলে প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রদেশটির সঙ্গে দক্ষিণ সুদান ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সীমান্ত রয়েছে। ইতুরির রাজধানী বুনিয়া থেকে একজন সংক্রমিত ব্যক্তি ওত-উয়েলে ভ্রমণ করার পর সেখানে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।আল জাজিরা জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ এখন সংক্রমণের উৎস খুঁজে বের করতে এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। ওত-উয়েলেতে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ায় কঙ্গোর পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলে প্রায় দেড় কোটি মানুষের বসবাস। সংঘাত-বিধ্বস্ত ইতুরি প্রদেশটি দেশের সর্বশেষ এবং ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাবপ্রবণ এলাকা। গত মে মাস থেকে সেখানে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। কারণ এ সময় আক্রান্ত ব্যক্তির মরদেহ স্বজনদের সংস্পর্শে আসছে। ফলে সংক্রমণ আরও বিস্তার লাভ করছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় জনগণের অবিশ্বাসের কারণে সাহায্যকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নিরাপদে দাফনের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। কারণ অনেকেই মৃতদের দেহ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকছেন না। কঙ্গোতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রায়ই কয়েক দিন ধরে চলে। এ সময় পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা মৃত ব্যক্তির দেহ স্পর্শ করেন। শনিবার সরকার রাজধানী কিনশাসাসহ চারটি প্রদেশে জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সংক্রমণের বিস্তার রোধে সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে।-এজেড

জুলাই-আগস্ট ‘স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পলায়নের মাস’

জুলাই-আগস্ট ‘স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পলায়নের মাস’

জুলাই-আগস্ট মাসকে ‘স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পলায়নের মাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।তিনি বলেছেন, জুলাই এবং আগস্ট এই দুই মাস স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পলায়নের মাস। এই মাসে জুলাই যোদ্ধা যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের স্মরণ করি। আজকে আমাদের মনে রাখতে হবে, ১৭ বছরের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন এবং পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, তাদের কথা। সাধারণ জনগণ পছন্দমতো বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। বিএনপির মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা।বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে দিনাজপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ও জেদান আল মুসা। মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার ওপর জোর দিয়ে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বাড়ির আশপাশে যারা না খেয়ে আছেন, আর্থিকভাবে দুর্বল কিংবা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, তাদের সবার জীবনমান উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রত্যেক মানুষকে উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য। বৈষম্যহীন ও সুশাসনভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে প্রতিটি নাগরিককে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে সমাজের কোনো মানুষকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। -এজেড

Website Top Header
Jatiyo Section Head

অর্থ-বাণিজ্য

শিক্ষা

ফিচার

Website Top Header