শিরোনাম
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি

খামেনিকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে জনসমুদ্র, দুই কোটি মানুষের সমাগমের আশা

রিপোর্টার / লেখক: আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: 04 Jul 2026, 11:11 AM
 খামেনিকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে জনসমুদ্র, দুই কোটি মানুষের সমাগমের আশা

বৃহত্তর আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির আবহে ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শোক ও শেষশ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছেন লাখো ইরানি। আজ শনিবার সকাল ছয়টার দিকে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে হাজার হাজার মানুষকে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। জনসাধারণের জন্য অনুষ্ঠানস্থলের মূল ফটক খুলে দেওয়ার পর থেকে মোসাল্লার চারপাশ এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

গতকাল শুক্রবার তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোক ও দাফন অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। টানা সাত দিন ধরে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গতকাল তেহরানে আগত বিদেশি নেতাদের বেশির ভাগই প্রয়াত নেতার প্রতি তাঁদের শেষশ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। আজ শনিবার ও আগামীকাল রোববার তেহরানে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় জনসাধারণ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের প্রয়াত কয়েকজন সদস্যের (যার মধ্যে ৩ জুলাই তাঁর স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ আদেলের কফিনের পাশে শোকাহত মানুষের প্রার্থনা ও শ্রদ্ধার চিত্র দেখা গেছে) প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাবেন।

ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে তিন দশক ধরে ইরানের শাসনক্ষমতায় থাকা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে আগামী তিন দিনে শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যা থেকেই বহু মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে দীর্ঘ অপেক্ষা করছিলেন। শ্রদ্ধা জানাতে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো সোমায়ি হামেদি নামের এক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, "আমরা আমাদের নেতাকে শেষবিদায় জানাতে চাই। তাই এভাবে অপেক্ষা করাটা আমাদের জন্য বেদনাদায়ক কিংবা কঠিন কিছু নয়।"

বিপুল জনসমাগমের এই সুবিশাল আয়োজনকে কেন্দ্র করে ইরান সরকার অত্যন্ত কড়া ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং আকাশপথও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পূর্বসূরি ও ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর ইরানে এটাই সবচেয়ে বড় জনসমাগম হতে চলেছে। উল্লেখ্য, সে সময় খোমেনির শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে প্রায় এক কোটি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হত্যার হুমকি দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কড়া নিরাপত্তা সতর্কতার অংশ হিসেবে খামেনির ছেলে তথা ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি এই শোক অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকছেন না।

আগামী সোমবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকযাত্রা ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় পবিত্র কোম (Qom) নগরীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে এবং এই কর্মসূচি মঙ্গলবারও চলবে। এরপর বুধবার ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খামেনির মরদেহ পৌঁছাবে। সেখান থেকে নাজাফের কারবালা শহরে জনসাধারণের অংশগ্রহণে বিশাল শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ইরাকের শোকাহত মানুষ তাঁর প্রতি শেষশ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সবশেষে খামেনির মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে এবং আগামী শুক্রবার দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজারে তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে। মাশহাদ মূলত প্রয়াত এই নেতার জন্মস্থান।

এর আগে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে গত মার্চ মাসেই দাফন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে সেই পূর্বনির্ধারিত সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন এবং ওই দিনই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সরাসরি আগ্রাসন শুরু হয়েছিল।

এই আগ্রাসনের ৪০ দিনের মাথায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ জুন দেশ দুটি একটি সমঝোতা স্মারকে (MoU) সই করে। বর্তমানে কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় দেশগুলোর মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার তেহরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে আসা একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

এ ছাড়া বিশ্বনেতাদের মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখেইল কাভেলাশভিলি, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজ এবং রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ গতকাল তেহরানে এসে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তেহরানে আয়োজিত এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আরও শ্রদ্ধা জানান ভারতের বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন, ভারতের কেন্দ্রীয় উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গারিটা, চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির সহসভাপতি হে ওয়েই এবং আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রয়াত নেতার প্রতি শেষবিদায়ের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।

ভিডিও প্রতিবেদন

দুই দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিনাজপুর ডাক কর্মচারী ইউনিয়নের | Global TV News