যে প্ল্যাটফর্মে মিলবে ‘জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত’ সব সরকারি সেবা
‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি’
নাগরিক সেবা আরও সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে যুগান্তকারী উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। এখন থেকে জন্মের পর একটি শিশুর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তৈরি হবে একটি ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি’। আর এই একটিমাত্র আইডির মাধ্যমেই একজন নাগরিক জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ভূমিসেবাসহ সব ধরনের সরকারি সেবা ও তথ্য একটিমাত্র প্ল্যাটফর্মে পেয়ে যাবে। ফলে নাগরিকদের আর আলাদা আলাদা পরিচয়পত্র বহন করতে হবে না কিংবা বিভিন্ন দফতরে বারবার একই তথ্য বা কাগজের ফাইল জমা দেওয়ার ঝামেলা পোহাতে হবে না।
আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের ভাবনায় ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগের আওতায় এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে।
দেশের ৩৮ জেলায় নেই আইসিইউ: ডা জুবাইদা রহমান | Global TV News
- যেভাবে কাজ করবে এই সিস্টেম?
সমন্বিত ডাটাবেজ: সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি, পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভূমি সেবা ও বিআরটিএ-সহ সব সরকারি ডাটাবেজকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনা হবে।
স্বয়ংক্রিয় আইডি তৈরি: হাসপাতালে কোনো শিশুর জন্ম হলেই তার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় যুক্ত হবে। এরপর বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে নবজাতকের জন্য একটি স্থায়ী ডিজিটাল আইডি তৈরি হয়ে যাবে। তবে বাসায় জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রেও থাকবে আলাদা বিশেষ ব্যবস্থা।
স্মার্টফোনভিত্তিক ডিজিটাল ওয়ালেট: প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি করে ডিজিটাল ওয়ালেট তৈরি করা হবে। এতে পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও সরকারি সব নথি সুরক্ষিত থাকবে, যা ফিজিক্যাল বা কাগজের পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
নিরাপত্তা ও বাস্তবায়ন: অনেকের মনেই ডেটা সুরক্ষার প্রশ্ন আসতে পারে। তবে কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, সব তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে থাকলেও নাগরিকের নিজস্ব সম্মতি বা কনসেন্ট ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার করা হবে না। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ও জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করেই পুরো ব্যবস্থাটি পরিচালিত হবে।
বিশ্বব্যাংক সমর্থিত ‘ডি-স্টার’ প্রকল্পের আওতায় এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের সফল ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি মডেল’ পর্যালোচনা করে এই কাঠামোকে বাংলাদেশের উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে। উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, আগামী মাস থেকেই দেশের প্রথম ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের পর এই স্মার্ট ‘ওয়ান আইডি’র উদ্যোগ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কতটা কমাবে তা সময়ই বলে দিবে।