শিরোনাম
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি

কেপ ভার্দে ম্যাচে লিওনেল মেসির গড়া ১১টি ঐতিহাসিক রেকর্ড

রিপোর্টার / লেখক: গ্লোবাল টিভি বিডি | প্রকাশিত: 04 Jul 2026, 03:10 PM
 কেপ ভার্দে ম্যাচে লিওনেল মেসির গড়া ১১টি ঐতিহাসিক রেকর্ড

বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার ম্যাচ মানেই যেন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির নিত্যনতুন ইতিহাস সৃষ্টি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় ও রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিশ্ববাসী সেটারই আরেকটি অকাট্য প্রমাণ পেল। দলকে আসরের শেষ ষোলোতে (নকআউট পর্ব) তোলার পাশাপাশি এই একটি ম্যাচেই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক একের পর এক অনন্য রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন।

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ৩০তম ম্যাচ খেলেন মেসি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসের পাতায় সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার হিসেবে এককভাবে শীর্ষ স্থানটি এখন তাঁরই দখলে।

ম্যাচের ঠিক ২৯তম মিনিটে গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে মোট ২০টি গোল করার এক অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেন লিওনেল মেসি। একই সঙ্গে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ আসরে এটি ছিল তাঁর ব্যক্তিগত সপ্তম গোল।

এই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার এক বিরল নজির স্থাপন করেছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাঁর আগে এই অনন্য কীর্তি ছিল কেবল হাঙ্গেরির গিওর্গি সারোসি এবং ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার ভাভার। এর পাশাপাশি বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে (২০২২ ও ২০২৬) ৭ বা তার বেশি গোল করার মহাকীর্তিও এখন কেবল তাঁরই দখলে।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে এই ম্যাচে মেসি শুধু নিজেই গোল করেননি, বরং অতিরিক্ত সময়ে কর্নার থেকে দলের জয়সূচক আত্মঘাতী গোলের মোক্ষম সুযোগটিও তৈরি করে দেন তিনি। এর ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মেসির গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে সামগ্রিক অবদান দাঁড়িয়েছে ১২টিতে (৬টি গোল ও ৬টি অ্যাসিস্ট)। এই কীর্তির মাধ্যমে ব্রাজিলের পেলে এবং ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেকে (উভয়ের অবদান ১১টি) ছাড়িয়ে এই তালিকার একক শীর্ষে আরোহণ করেছেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বকাপের সর্বশেষ ছয়টি নকআউট ম্যাচে মেসির সরাসরি গোলে অবদান এখন ১০টি। এই সময়ের মধ্যে তিনি নিজে করেছেন ৬টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৪টি গোল।

এ ছাড়া বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আরও একটি বিরল রেকর্ড গড়েছেন মেসি। ৩৫ বছর বয়সের পর বিশ্বকাপে তাঁর একক গোলসংখ্যা এখন ১৪টি। উল্লেখ্য, এই বয়সের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসে ফুটবল বিশ্বের অন্য সব দেশের সব ফুটবলার মিলে যেখানে মোট ২৫টি গোল করতে পেরেছেন, সেখানে মেসি একাই করেছেন ১৪টি গোল।

কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহার বিপক্ষে গোল করার মধ্য দিয়ে মেসি আরেকটি অদ্ভুত ও আকর্ষণীয় রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। গোলদাতা (মেসি) ও গোলরক্ষকের (ভোজিনহা) সম্মিলিত বয়স দাঁড়িয়েছিল ৭৯ বছর ৬১ দিন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের যেকোনো ম্যাচে সর্বোচ্চ সম্মিলিত বয়সের রেকর্ড।

একই সঙ্গে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মোট ২২টি ভিন্ন দেশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছেন মেসি। কেপ ভার্দেসহ এর মধ্যে ১৪টি ভিন্ন দেশের বিপক্ষেই গোল করার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি।

সবশেষে আর্জেন্টিনার ফুটবলের আরেকটি ঐতিহাসিক রেকর্ডের একদম দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক। চলতি বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ৭টি। আর মাত্র একটি গোল করলেই তিনি ১৯৩০ সালের উদ্বোধনী বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গুইয়ের্মো স্তাবিলের করা এক আসরে ৮ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করবেন, যা কোনো আর্জেন্টাইন ফুটবলারের জন্য এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।

ভিডিও প্রতিবেদন

Live | সন্ধ্যার সংবাদ | Sondhar Songbad | News Bulletin | Today News | Global TV News

এসএফ