উদ্ধারকাজে নিয়োজিত বোটই এখন উদ্ধারের অপেক্ষায়
উদ্ধারকাজে নিয়োজিত একটি নৌযান হাজারো বন্যার্ত মানুষের ভরসা। কিন্তু সেই ভরসার প্রতীকই যদি অন্যের উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকে, তবে বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। অযত্ন, অবহেলা এবং প্রয়োজনীয় তদারকির অভাবে হাজারো বন্যার্ত মানুষকে উদ্ধার ও নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তায় ব্যবহৃত একটি বোট এখন নিজেই উদ্ধারের অপেক্ষায়। যেন প্রবাদ— ‘সরকারি মাল, দরিয়ায় ঢাল’ —এর বাস্তব উদাহরণ।
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ও পিংনা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীতে চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত, বন্যার সময় উদ্ধারকাজ, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় দ্রুত যোগাযোগ এবং নদীবেষ্টিত জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২২–২০২৩ অর্থবছরে ‘ব্রহ্মপুত্র-৩’ নামে একটি বোট সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বোটটি দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো ক্রু বা কর্মচারী নিয়োগ না থাকায় বৃষ্টির পানিতে বোটের ভেতর ভরে যায়। ফলে যমুনা নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বোটটি ধীরে ধীরে নদীর গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে। অথচ বোটটি মেরামতের জন্য ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দায়িত্বে প্রায় ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার আওনা ইউনিয়নের জেটিঘাট এলাকায় বোটটি বন্যার পানির সঙ্গে সঙ্গে তলিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত বোটটি উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।