ঢাকার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ১০০ শিক্ষার্থীর কুরআন হিফজ
রাজধানীর উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (ডব্লিউআইএস) ও গাইডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের (জিআইএস) হিফজ ও এ লেভেল সমাবর্তন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত হিফজ ও এ-লেভেল কনভোকেশন ২০২৬-এ ১০০ জন হাফেজে কুরআন এবং এ লেভেলে কৃতিত্ব অর্জনকারী ৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে সমাবর্তনের সনদ, সম্মাননা পদক ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত অভিভাবকেরা করতালির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। অনেকেই সন্তানের এ অর্জনকে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
আয়োজকদের দাবি, বাংলাদেশের ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের ইতিহাসে একসঙ্গে সর্বোচ্চসংখ্যক হাফেজে কুরআনকে গ্র্যাজুয়েশন প্রদান করার এটি প্রথম ঘটনা। বর্তমানে ডব্লিউআইএস ও জিআইএসে এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী হিফজুল কুরআন অধ্যয়ন করছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান দুটি দীর্ঘদিন ধরে ইসলামিক শিক্ষা ও ব্রিটিশ কারিকুলামের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের হাফেজে কুরআন এবং আন্তর্জাতিক মানের ও-লেভেল ও এ-লেভেল শিক্ষায় এগিয়ে নেওয়ার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নূরউদ্দীন অপু, সাহিত্যিক, কবি ও সাংবাদিক আনিসুল হক, প্রথম আলোর প্রধান ডিজিটাল কর্মকর্তা জাবেদ সুলতান পিয়াস, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলাম, অক্সফোর্ডএকিউএর কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহেন রেজা, ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশের প্রধান সারওয়াত রেজা, এডএক্সেলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক লিটন আব্দুল্লাহ এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের ব্যবসা উন্নয়ন পরিচালক তাহনী ইয়াসমিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, মুফতি সাইফুল ইসলাম, গাজী সানাউল্লাহ রাহমানী, ড. গিয়াস উদ্দিন তালুকদার, ড. এবিএম হিজবুল্লাহ, মাওলানা হাবিবুল্লাহ ইকবাল এবং মাওলানা আব্দুর রহিম।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আধুনিক জ্ঞান, নৈতিক শিক্ষা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ একটি প্রজন্মই দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সততা, নিষ্ঠা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে ভবিষ্যৎ জীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আফম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান নয়, বরং বাংলাদেশের শিক্ষা-ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার সঙ্গে কুরআনের হিফজকে সফলভাবে একীভূত করার উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীদের কুরআনের আদর্শ ধারণ করে দেশ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ডব্লিউআইএস-জিআইএসের প্রিন্সিপাল ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবদুল্লাহ জামান বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা একই সঙ্গে কুরআনের ধারক, নৈতিক চরিত্রের অধিকারী এবং বিশ্বমানের শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। কুরআন ও সহিহ হাদিসে হাফেজদের জন্য বিশেষ সম্মানের কথা উল্লেখ রয়েছে। কেয়ামতের দিন হাফেজদের মর্যাদা ও তাদের অভিভাবকদের সম্মানিত করার সুসংবাদ উপস্থিতদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানজুড়ে শিক্ষার্থীরা ইসলামিক নাশীদ, কুরআনের ইতিহাসভিত্তিক নাটক, আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক পরিবেশনা এবং বিভিন্ন সৃজনশীল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে। সমাপনী বক্তব্যে অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্বেচ্ছাসেবক এবং অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ডব্লিউআইএস ও জিআইএসের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাদের।