হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে শেখ হাসিনা তাঁর অধীনে বন্দি ছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী। সোমবার (২৭ এপ্রিল) জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) ‘গুম ও নির্যাতনের’ অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের জেরার জবাবে তিনি এ তথ্য দেন।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে আযমীকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। আযমী জানান, ১৯৮৩ সালে এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে হেয়ার রোডের একটি বাড়িতে রাখা হয়েছিল। সে সময় সামরিক দায়িত্ব পালনকালে তিনি তাঁর কোম্পানিসহ ওই বাড়ির দায়িত্বে ছিলেন এবং কয়েক দিন শেখ হাসিনা তাঁর অধীনেই অন্তরীণ ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আমান আযমীকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার সেই বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে তাঁকে 'অকালীন অবসর' প্রদান করে। ২০১৬ সালে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আট বছর ‘আয়নাঘরে’ বন্দি করে রাখার অভিযোগ করেছিলেন আযমী, যা নিয়ে পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়।
জেআইসিতে গুম ও নির্যাতনের এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার এই মামলার শুনানির জন্য কারাগারে থাকা তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তা—মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকীকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম ও শাইখ মাহদীসহ অন্যান্যরা।
এসএফ