ঢাকা, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ | ৯ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

৭ খুনের এক যুগ: মামলার রায় কার্যকরের প্রতীক্ষায় স্বজনেরা

৭ খুনের এক যুগ: মামলার রায় কার্যকরের প্রতীক্ষায় স্বজনেরা

নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাত খুন হত্যাকাণ্ডের এক যুগ পূর্ণ হলেও মামলার রায় এখনো কার্যকর হয়নি। র‍্যাব কর্মকর্তাদের সরাসরি অংশগ্রহণে সংঘটিত এই বর্বরোচিত ঘটনার বিচার সম্পন্ন করার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনেরা।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জের আদালত নূর হোসেন ও র‍্যাবের সাবেক ১৬ কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে বাকিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

নিহত গাড়িচালক জাহাঙ্গীরের স্ত্রী শামসুন্নাহার আক্তার নুপুর জানান, তাঁর সন্তান জন্মের পর থেকে বাবাকে দেখেনি। বাবার খুনিদের শাস্তি চোখের সামনে দেখে যেতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত। অন্যদিকে, নিহত কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা আক্তার বিউটি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকারের আমলে দ্রুত এই রায় কার্যকর হবে। বিচারের আশায় দিন গুনছেন নিহত তাজুলের বৃদ্ধ বাবা আবুল খায়েরও।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) আবুল কালাম আজাদ জাকির জানান, মামলাটি গত আট বছর ধরে উচ্চ আদালতে ‘লিভ টু আপিল’ (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) কার্যক্রমে আটকে আছে। আইনি প্রক্রিয়ার এই জটিলতার কারণেই চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বিলম্বিত হচ্ছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত মামলাটি নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাত খুনের এই রোমহর্ষক ঘটনা দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করলেও এক দশকেও রায় কার্যকর না হওয়াকে ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

এসএফ