কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা বলেছেন, আমাদের আবেগের জায়গা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এটা আমরা চালু করতে চাই পুনরায়। যদিও কয়েকটি বিভাগ চালু আছে। পূর্ণাঙ্গভাবে যেন চালু হয় সে বিষয়ে আজকে মিটিং ছিল। কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত অলরেডি নিয়েছি। মেডিকেল নিয়ে কিছুদিনের ভেতরেই একটি সুখবর আপনারা জানতে পারবেন। যেটা শুনলে আপনাদেরও আনন্দ হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা।
আমির হামজা বলেন, আমাদের কুষ্টিয়া জেলাসহ আশপাশের চারপাশটা জেলার মানুষের উপকারের জন্য, সেবার জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। আমরা দুইটা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখনো এগুলো লং প্রসেসের বিষয়। সাতটা বিষয় সামনে আছে। দুইটা আজকে হয়েছে বাকিগুলা সামনে হবে। আমরা প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচির ভেতরে প্রত্যেকটা সরকারি অফিস আদালত যেগুলো আছে সেগুলো আসলে জনবান্ধব করার চেষ্টায় ছিলাম। ডিসি অফিসে, এসপি অফিসে, টিএনও অফিসে, থানায় মানুষ যেতে ভয় পায়। তারা মনে করে এসব জায়গায় গেলে কি না কি হয়ে যায়। আমরা চাচ্ছি এইসব জায়গায় মানুষজনের যাতায়াত যেন সহজ হয়। কয়েকটি বিষয় উদ্যোগ নেওয়ার কারণে সহজ হয়েছে। আগে ডিসির কাছে যেতে অনেক সিস্টেম ছিল। আমি নিজেও গেছি ১৮ সালে ১৯ সালে। এখন সেই সিস্টেম অনেকটাই পাল্টিয়েছে। যেয়ে দেখবেন উনার যে সেবাটা সকাল দশটা থেকেই শুরু হয়ে যায় উনার যতক্ষণ পর্যন্ত শরীর পারে। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
হাসপাতাল নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে আমির হামজা বলেন, মেডিকেল এবং সদর হাসপাতাল নিয়ে আমার কাছে কিছু লিখিত অভিযোগ আছে। আমি সেগুলো তাদের জানিয়েছি সময় দিয়েছি এগুলো পাল্টাতে হবে। ভুল স্বীকার করে মাফ চেয়েছে। তারা বলেছে এটা আসলেই তাদের কন্ট্রোলের বাইরে ছিল। উপরওয়ালার দোষ দেয়। আমি বলেছি উপরওয়ালা কুষ্টিয়া কেউ নেই। উপরওয়ালা এখন আমি। সুতরাং যা হবে কিছু হলেই আমাকে জানাবেন। দালাল এবং বিভিন্ন স্পিড মানি বলা হয়, সাথে কালো কিছু হাত আছে। হাতগুলোর কথাও গোপনে কেউ কেউ আমাকে জানিয়েছে। আমি সরাসরি জানিয়েছি দুই নম্বরি কেউ যদি করতে চাই ভালো, আমার কাছে টাকা দেওয়া আছে বা এই বিষয়ে বলা আছে, আপনারা উনার কাছে যান। এত ক্ষমতা নিয়ে কে চলে কুষ্টিয়ায় আমি দেখব।
তিনি আরও বলেন, এ কয়দিনে উদ্যোগ নিয়ে যা ফেস করছি আমিতো নিজে জানছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে অফার আসছে এটা আরও ঢিলা করেন। আমি বলেছি- ‘না’, জনগণের জন্য এবং এই দেশের জন্য যে শপথ আমরা নিয়ে এসেছি সংসদ থেকে এটার ওপরে থাকতে গেলে আপনাদের কোনো কথা শোনা যাবে না। অতীতে যারা শপথ নিয়েছিল তারা শপথটা ঠিক রাখেনি। আমরা শপথ ঠিক রাখবো। এতদিন যা হয়েছে অতীতের কথা আমরা বলবো না বলতে চাইও না। তারা আল্লাহর কাছে জবাব দেবে। এখন সামনের দিকে যা করতে চাই তা আপনাদের দেখাবো ইনশাআল্লাহ।-ঢাকা পোস্ট