ঢাকা, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ | ৮ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ

কেবল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়, বরং ‘দ্বিমত’ প্রকাশেরও স্বাধীনতা চাই

কেবল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়, বরং ‘দ্বিমত’ প্রকাশেরও স্বাধীনতা চাই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি। তিনি অভিযোগ করেছেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে কার্টুন শেয়ার করে বিভিন্ন স্যাটায়ার, বিভিন্ন মকারিকে প্রমোট করছেন। বিরোধী মতকে প্রমোট করছেন, সেখানে এই সংসদ ঘটিত হওয়ার পর থেকে আজকে পর্যন্ত ৯টা ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মত প্রকাশের জন্য বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) মত প্রকাশের স্বাধীনতা চেয়ে সংসদে তিনি এমন অভিযোগ তুলে ধরেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আগেও ছিল, আওয়ামী লীগের সময় ছিল তবে সেটা ছিল কেবল ‘সহমত’ প্রকাশের স্বাধীনতা। আমরা এই পার্লামেন্টের কাছে কেবল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়, বরং ‘দ্বিমত’ প্রকাশের স্বাধীনতা চাই। আমরা এখানে দাঁড়িয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতে চাই। আমরা নির্ভয়ে ফেসবুকে লিখতে চাই, আমরা ‘ব্যাক পেজ’ ব্যবহার করতে চাই না। কিন্তু আবার একটা ভয়ের ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আজকে আমরা সংসদে সবার কাছে অনেকের সংগ্রামের কথা শুনি, তারা অনেক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আজকে সংসদে এসেছেন। আসলে আমাদের প্রজন্মের জন্য আপনারা যে কাজগুলো করছেন, যে দায়িত্বটা নিয়েছেন, এই দায়িত্বের ফলভোগী বা সুবিধাভোগী কিন্তু আমরা আমাদের এই প্রজন্ম।

তিনি আরও বলেন, আমরা খুব আশাহত হই যখন এই সংসদ এত রক্ত, এত লড়াই, এত ত্যাগের পরে গঠিত হয়েছে, কিন্তু এই সংসদ আবার আগের সেই ‘ভিসিয়াস সাইকেলে’ (দুষ্টচক্র) ফিরে যাচ্ছে। বিরোধী মত দমনের নামে মামলার যেই সাইকেল, আমরা সেখানে আবার চলে গিয়েছি। ক্যাম্পাসগুলো আবার অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে। অতীতে আমরা গেস্টরুম ও গণরুমের অপসংস্কৃতি দেখেছি। শিক্ষার্থীরা অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসত; কিন্তু আমরা দেখেছি ক্ষমতাসীন দলগুলো কীভাবে তাদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পুঁজি করে বাধ্যতামূলক রাজনীতিতে বাধ্য করত। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও সেই গেস্টরুম-গণরুম কালচার এবং বাধ্যতামূলক রাজনীতির ধারা ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা চলছে।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক বলেন, আজকে মানবাধিকার কমিশনকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। বারবার বলা হচ্ছে যে, মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালীভাবে পুনর্গঠন করা হবে। অন্যদিকে, পুলিশ সংস্কার কমিশনের অর্ডিন্যান্স বাতিল করা হয়েছে এবং বলা হচ্ছে যে, পুনর্বিবেচনা সাপেক্ষে তা সংসদে উত্থাপন করা হবে। বর্তমান সবকিছুই তো সংশোধনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা যদি থাকত, তবে এই অর্ডিন্যান্সটি গ্রহণ করেও পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা সম্ভব ছিল। আমাদের জনগণের কাছে যেতে হবে জনগণের আশাগুলোকে, সময়গুলোকে, স্বপ্নগুলোকে আমরা রাজনৈতিক ভাষার মধ্য দিয়ে, কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সেগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আবার যদি আমরা বিভাজনের রাজনীতিতে যাই তাহলে সেখান থেকে বিএনপি বেনিফিটেড হবে না, এনসিপি হবে না, জামায়াতে ইসলাম বেনিফিটেড হবে না, সেখান আমরা জুলাইতে যাদেরকে আমরা পরাজিত করেছি তারা বেনিফিটেড হবে।

—এজেড