স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে তেলের সংকট নেই, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও ‘অনৈতিক ব্যবসা’ করে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি করা হচ্ছে। আমি আসতে আসতে দেখলাম, পেট্রোল পাম্পগুলোর সামনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। এটা একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সমস্যাটা তেল কমের জন্য নয়, সরবরাহ কমের জন্য নয়। এই সমস্যাটা কিছুটা হচ্ছে তৈরি করা।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয় জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলার মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে ঘূর্ণিঝড় ও শীলা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকল্পে চেক ও বরাদ্দপত্র বিতরণ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দুঃখজনকভাবে কিছু মানুষ এখানে তেল নিয়ে একটা অনৈতিক ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে। যে ব্যবসাটা আমাদের জন্য, দেশের জন্য, জাতির জন্য ক্ষতিকর। পাম্প থেকে তেল নিতে তারা কালোবাজারে বিক্রি করছে, তাই না? এটা করতে দেয়া যাবে না। আমি ডিসি সাহেবকে বলে দিয়েছি, এটার দিকে নজর দিতে হবে। নজরদারি করতে হবে এবং কেউ যেন কোনোভাবে দুর্নীতি করে এইভাবে তেল বিক্রি করে ফায়দা নিতে না পারে, এজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।’
দেশের উন্নয়নে বিএনপি সরকার কাজ শুরু করেছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের জন্য নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন এবং নতুন করে বাংলাদেশকে গড়ে তুলবার চেষ্টা করছেন। কৃষকরা যাতে পানি সরবরাহ সঠিকভাবে পান, সেজন্য এরইমধ্যে খালখনন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। কৃষকরা যাতে ফসলের ন্যায্যমূল্য পায়, সেজন্য সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারকে ১ বান্ডিল টিন ও তিনহাজার টাকা এবং ৮০ পরিবারকে ৬ হাজার ২৫০ টাকা প্রদান করেন। এছাড়া জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৭০ পরিবারকে ১ বান্ডিল টিন ও ৬০ পরিবারকে ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়। এছাড়া ৮৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৯০ লাখ টাকার বরাদ্দপত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় মোট প্রায় ২০ কোটি টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। এর মধ্যে আরও রয়েছে ১৯৫টি মসজিদ, ৮৯টি মন্দির, ৫টি কবরস্থান, ৪টি ঈদগাহ এবং ১টি শ্মশান মোট ২৯৪টি প্রতিষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোদা দাদ, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল আলম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
—এজেড