ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ | ৬ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

সংসদীয় রীতিনীতি মেনে চলার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি স্পিকারের

সংসদীয় রীতিনীতি মেনে চলার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি স্পিকারের

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের (এমপি) শিষ্টাচার ও সংসদীয় রীতিনীতি মেনে চলার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এমপিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কিছু করা অনুচিত। বিশেষ করে সংসদ কক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় স্পিকারের চেয়ারের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন না করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে সংসদীয় রীতিনীতির বিভিন্ন ব্যত্যয় লক্ষ্য করে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বৈশ্বিক রীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্পিকার বলেন, সংসদে অনেক সদস্য প্রবেশ করার সময় চেয়ারের প্রতি কোনো সম্মান প্রদর্শন করেন না, যাওয়ার সময়ও করেন না। এটি বিশ্বব্যাপী সংসদের প্রচলিত নিয়ম যে, ঢোকার সময় মাথা নত করে কিংবা সালাম দিয়ে বা বের হওয়ার সময়ও সম্মান প্রদর্শন করে তারপরে যেতে হয়। আমি দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, এই সাধারণ নিয়মগুলো অনেকেই মানছেন না।

অধিবেশন চলাকালে যাতায়াত ও মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ে স্পিকার বলেন, আজক দেখলাম দুজন সদস্য দর্শক গ্যালারিতে উপবিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করছেন। এটি একেবারেই অনভিপ্রেত। যখন সংসদ চলে তখন স্পিকার এবং বক্তার মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে ক্রস করাটা সঠিক নয়। কিন্তু এটি আমি হরহামেশা লক্ষ্য করছি। এছাড়া অনেক সদস্য সংসদে টেলিফোনে কথাবার্তা বলেন। টেলিফোনে আলাপ করার কোনো রেওয়াজ সংসদে নেই। আপনাদের টেলিফোনটা দয়া করে মিউট করে রাখবেন।

সংসদ কক্ষে পানাহারের মতো নজিরবিহীন ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংসদে এরই মধ্যে একজনকে পানাহার অবস্থায় দেখতে পেয়েছি। সংসদে খাওয়া-দাওয়া বা পানাহারের কোনো বিধান নেই। এই কথাগুলো বলতে আমার খারাপ লাগছে, কিন্তু অতীতে এ ধরনের জিনিস ছিল না। আমাদের এই সংসদের ট্রেডিশন (ঐতিহ্য) বজায় রাখা সবার কর্তব্য।

সবশেষে নতুন সংসদ সদস্যদের সংসদীয় বিধিবিধানের বই পড়ার পরামর্শ দিয়ে স্পিকার বলেন, যারা সংসদে নতুন এসেছেন, তারা রুলস অব প্রসিডিউর বইটা ভালোভাবে পড়ে প্রস্তুত হয়ে তারপরে দাঁড়াবেন। তাহলে আপনাদের জন্য সহজ হবে এবং আমাদেরও কোনো অপ্রীতিকর কথা বলতে হবে না।

—এজেড