ঢাকা, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ | ৮ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

উপকূল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে সরকার: মীর হেলাল

উপকূল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে সরকার: মীর হেলাল

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন,সন্দ্বীপের মতো উপকূল রক্ষা ও উন্নয়নে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য কোনো অবাস্তব প্রতিশ্রুতি না দিয়ে উপকূলীয় অঞ্চল নিয়ে সরকারের একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা আছে। প্রকৃতি ও নদী ভাঙন থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে একটি সেফটি নেট তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি গুরুত্বারোপ করেন যে, সমস্যার মূলে গিয়ে সমাধান করতে হবে, যাতে এর ফলাফল দীর্ঘস্থায়ী হয়।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে ‘আমরা সন্দ্বীপবাসী’ ও ‘হিউম্যান ২৪’ আয়োজিত ‘সন্দ্বীপের এপ্রিল ট্র্যাজেডি : উপকূল বাঁচাতে এখনই সিদ্ধান্ত’ শীর্ষক উপকূলীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় ব্যবস্থাপনায় ব্লক বা বাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল কাজ। বিগত ১৭ বছরে দেশের সম্পদ পাচারের কারণে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ রাখা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আপাতত উপকূলীয় অঞ্চলে নিবিড় বনায়ন কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সন্দ্বীপের কোন ইউনিয়নে কী পরিমাণ ও কী ধরনের গাছ লাগানো হবে, তার একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছে। এর ফলাফল আগামী এক-দেড় বছরের মধ্যেই পাওয়া যাবে।

সন্দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের নৌ-যোগাযোগের দুর্ভোগ লাঘবে নৌ ও সেতু প্রতিমন্ত্রীর সাথে সমন্বয় করে দ্রুত সন্দ্বীপ সফরের ঘোষণা দিয়ে মীর হেলাল বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নিরাপদ নৌ-চলাচলের ব্যবস্থা করা এবং মূল ভূখণ্ডের সাথে সন্দ্বীপের ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ নিশ্চিত করা। এছাড়া ঘাটের ভাড়ার সমস্যাও আগামী দুই-চার দিনের মধ্যে সমাধান হবে।সন্দ্বীপে পর্যায়ক্রমে ল্যান্ড সার্ভে বা ভূমি জরিপ শুরু করা হবে, যা এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করবে। এছাড়া ভাসানচরের সীমানা নির্ধারণে ইতোমধ্যেই পিলার স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পন্ন হয়েছে। খাজনা আদায়ের সমস্যার বিষয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

সন্দ্বীপে অবৈধভাবে বালু বা মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট হওয়া জাতীয় সম্পদের অপচয়, যা আর হতে দেওয়া হবে না। একই সাথে চিকিৎসক ও শিক্ষকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সন্দ্বীপের নাগরিকরা নদীভাঙন,নৌযায়াত, ভূমির অধিকার ও শিক্ষা চিকিৎসার অর্পযাাপ্ততার কথা তুলে ধরেন। এসময় প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রণালয়ে কল করে অবহিত করেন। এছাড়া সন্দ্বীপের ইউএনওকে কল করে সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে)সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আমির আলাউদ্দীন শিকদার এবং সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু তাহের। বক্তব্য রাখেন, ইপসার হেড অব এডভোকেসি মোহাম্মদ আলী শাহীন, সিপিআরডির প্রধান নিবার্হী সামসুদ্দোহা,বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শোয়াইব উদ্দিন হায়দার,অনলাইনে ভিডিও বার্তা পাঠান লেখক ও দূযোর্গ বিশেষজ্ঞ গওহর নাইম ওয়ারা।উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন উপকূল ও দ্বীপ উন্নয়ন বোর্ড বাস্তবায়ন পরিষদের মূখ্য সমন্বয়কারী আমিনুর রসুল।

সন্দ্বীপের দাবি ও সমস্যার কথা প্রতিমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলমগীর হোসাইন ঠাকুর,চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের ১ নং সহ সভাপতি ফোরকান উদ্দীন রিজভী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত তালুকদার,সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফয়সাল,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক তাহসিনা রহমান, ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব বাংলাদেশ’র স্টাফ রিপোর্টার নুর নবী রবিন,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি এ এইচ শামীম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সূজাউদ্দৌলা সজিব,সন্দ্বীপ উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার সজীব, এনসিপি নেতা মোসলেহ উদ্দীন খান,সমাজকর্মী সাইফুর রহমান লিংকন,খাদেমুল ইসলাম,মাহবুবুল মাওলা,আমজাদ হোসাইন প্রমুখ।

—এজেড