চট্টগ্রামের লালদীঘির মাঠে লাখো দর্শকের গর্জনের মধ্যে আবারও নিজের আধিপত্য প্রমাণ করলেন কুমিল্লার বাঘা শরীফ। জব্বারের বলী খেলার ১১৭তম আসরের ফাইনালে কুস্তিগীর মো. রাশেদকে পরাস্ত করে টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নের মুকুট ছিনিয়ে নিলেন তিনি। এই জয়ের মাধ্যমে বলী খেলার ইতিহাসে ‘হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ান’ এর বিরল তালিকায় নাম লেখালেন বাঘা শরীফ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকালে শুরু হওয়া আসরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১০৮ জন বলী অংশ নেন। নিয়ম অনুযায়ী, গতবারের সেরা চার— চ্যাম্পিয়ান বাঘা শরীফ, রানার আপ রাশেদ, শাহজালাল ও কামাল— সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ পান। তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে বাছাই পর্ব পেরিয়ে আসেন বাগেরহাটের মামুন, কুমিল্লার দিপু, নারায়ণগঞ্জের নুরুল ইসলাম ও সাভারের মিঠু।
কোয়ার্টার ফাইনালেই জমে ওঠে লড়াই। বাঘা শরীফ দিপুকে, রাশেদ মামুনকে, শাহজালাল নুরুল ইসলামকে এবং মিঠু কামালকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেন। সেমিফাইনালে বাঘা শরীফ গতবারের সেমিফাইনালিস্ট শাহজালালকে সহজেই মাটিতে নামান। অন্যদিকে রাশেদ কঠিন লড়াইয়ে মিঠুকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াইটি হয় এবারের আসরের সবচেয়ে দীর্ঘ ও উত্তেজনাপূর্ণ। ১৭ মিনিটের বেশি সময় ধরে চলা শ্বাসরুদ্ধকর খেলায় সাভারের মিঠু ১১৪তম আসরের তৃতীয় স্থান অধিকারী শাহজালালকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতে নেন।
ফাইনালের আগে বিকাল সাড়ে ৩টায় ঐতিহ্যবাহী এই আসরের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
উল্লেখ্য, ১৯০৯ সালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তরুণদের শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে বদরপাতির ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার সওদাগর লালদীঘি ময়দানে এই কুস্তি প্রতিযোগিতার প্রচলন করেন। সেই থেকে বাংলা পঞ্জিকার ১২ বৈশাখে এই বলী খেলা ও তিন দিনব্যাপী মেলা চট্টগ্রামের মানুষের প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। তবে এবার এসএসসি পরীক্ষার কারণে মেলা একদিন কমিয়ে দুই দিন করা হয়।
—এজেড