ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ | ১২ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

মার্কিন নৌ অবরোধে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে আগুন

  মার্কিন নৌ অবরোধে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে আগুন

ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ অবরোধ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থানের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একলাফে ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত চার বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই নৌ অবরোধ কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তাঁর মতে, সরাসরি সামরিক হামলার চেয়ে নৌ অবরোধ ইরানের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ অবস্থাকে পর্যুদস্ত করতে অনেক বেশি কার্যকর। প্রয়োজনে এই অবরোধ আরও দীর্ঘ সময় চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ বাড়ছে। সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা সামাল দিতে হোয়াইট হাউজ এখন বিকল্প পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছে। এদিকে, এই অবরোধ অব্যাহত থাকলে তেহরান ‘কড়া জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনার আগে তাদের ওপর থেকে সব ধরনের অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে।

অন্যদিকে, এই সংকটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছেন। পুতিন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে তার পরিণতি গোটা বিশ্বের জন্য ভয়াবহ হবে। বিবিসি’র বরাতে জানানো হয়েছে যে, এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ও জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক মহলের কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে নজর রাখছে বিশ্ব।

এসএফ