ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ | ১২ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

এক সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ শিশু হামের টিকার আওতায় আসবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

 এক সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ শিশু হামের টিকার আওতায় আসবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের শতভাগ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শ্যামলী টিবি হাসপাতালে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণের ঔষধ ও সরঞ্জাম হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা জানান। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, হামের টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ ইতিমধ্যেই অর্জিত হয়েছে এবং অনেক এলাকায় শতভাগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। শিশুদের সুরক্ষায় ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দ্রুত সব কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে ৬ লাখ জিনএক্সপার্ট কার্টিজ এবং ১১ হাজার শিশুর জন্য যক্ষ্মা প্রতিরোধী ঔষধ জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গত ১৭ বছর টাকা থাকলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক কাজই বাস্তবায়িত হয়নি এবং বিগত ছয় বছর হাম প্রতিরোধে শিশুদের কার্যকর কোনো টিকাদান হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আগামী মাসের নির্ধারিত টিকাদান কর্মসূচি ১৪ দিন এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকেই শুরু করা হয়েছে বলে তিনি জানান। ইউনিসেফ, বিশ্বব্যাংক এবং আমেরিকার সহায়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়মতো এই সহায়তা না পেলে দেশের জনস্বাস্থ্যের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।

ভ্যাকসিন সংকট নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে পোলিও ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই এবং ভুল তথ্যের ভিত্তিতে এমন সংবাদ প্রচার হয়েছে। পাশাপাশি আসন্ন ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। মন্ত্রী জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে তাঁবু স্থাপনের কাজ শুরু হবে। তবে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। মন্ত্রীর মতে, স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রথম ৩০টি উপজেলায় এখন একজনও হামের রোগী নেই, যা সফল টিকাদানেরই ফল।

এসএফ