গাজা উপত্যকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামক একটি বিশাল আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী বহরের ওপর মাঝসমুদ্রে অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। উপকূল থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের পশ্চিমে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই আকস্মিক হামলা চালানো হয়। ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী ইতিমধ্যে বহরের অন্তত ১১টি জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে এবং বেশ কিছু জাহাজে তল্লাশি চালাচ্ছে। ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, বহরটি আকারে অনেক বড় হওয়ায় এবং এতে প্রায় ১ হাজার অধিকারকর্মী ও ১০০টি নৌকা থাকায় গাজা উপকূলের আগেই তা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ত্রাণবাহী বহরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইসরায়েলি সামরিক স্পিডবোটগুলো তাদের জাহাজের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং সশস্ত্র সেনারা লেজার ও সেমি-অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে যে, তারা ইতিমধ্যে বহরের অন্তত ৭টি নৌকা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছে। ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলমান ‘গণহত্যা’ ও এই বেআইনি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ধরনের সামরিক অভিযান সমুদ্র আইন এবং মানবাধিকারের পরিপন্থী। বিশেষ করে গ্রিসের উপকূলীয় এলাকায় যেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর কোনো আইনি এখতিয়ার নেই, সেখানে এই অভিযান একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে। এর ফলে গাজার অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের কাছে জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানো আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। উল্লেখ্য যে, গত ২০২৫ সালের অক্টোবরেও এই একই ত্রাণবাহী বহর ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণের মুখে পড়েছিল এবং সে সময় গ্রেটা থুনবার্গসহ অনেক অধিকারকর্মীকে আটক করা হয়েছিল। মিডল ইস্ট আই-এর বরাতে এই খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এসএফ