ঢাকা, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ | ৪ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই একটি নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, কূটনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পূর্বপরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পেছনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার বড় ভূমিকা রয়েছে। তিনি জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আলোচনার পাশাপাশি ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ ও অন্যান্য বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকবে। ইরান আলোচনার টেবিলে না আসা পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

এই সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টা আগেও ট্রাম্পের সুর ছিল কঠোর। হঠাৎ তাঁর এই অবস্থান পরিবর্তন আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তবে তেহরান এখনও বিষয়টি নিয়ে বেশ সতর্ক। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরান তাদের অবস্থান পরে স্পষ্ট করবে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন নৌ অবরোধকে ‘যুদ্ধকালীন পদক্ষেপ’ ও যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইরান তাদের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নীতি থেকে সরে আসতে নারাজ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ হোক।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি মূলত একটি কূটনৈতিক কৌশল হতে পারে। স্টিমসন সেন্টারের বিশ্লেষক বারবারা স্লাভিনের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির জটিলতা হয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে। আপাতত বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো গেলেও হরমুজ প্রণালিসহ নানা কৌশলগত ইস্যুতে দুই দেশের মতবিরোধ রয়েই গেছে, যা সংকটের স্থায়ী সমাধানকে এখনো অনিশ্চিত করে রেখেছে।