ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী কর্তৃক আটককৃত কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘তোস্কা’-এর ২৮ জন নাবিকের মধ্যে ছয়জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, ইরানের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে এই ছয় নাবিক ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছেন। তবে জাহাজে থাকা বাকি ২২ জন নাবিক এখনো যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের মুক্তির জন্য তেহরান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গত ২৯ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইরান এই জাহাজ আটকের ঘটনাকে ‘সমুদ্রে দস্যুতার’ সাথে তুলনা করেছে।
তেহরান জানিয়েছে, নাবিকদের জীবনের নিরাপত্তা এবং তাদের পরিবারের দুশ্চিন্তার কথা বিবেচনা করে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক অভিযানে যায়নি। পরিবর্তে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক পথে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। এর আগে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারস জানিয়েছিল, নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা সামরিক প্রতিক্রিয়া স্থগিত রাখলেও পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে যে, জাহাজটি বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইরানের বন্দর আব্বাসের দিকে যেতে থাকায় তারা এটি নিয়ন্ত্রণে নিতে বাধ্য হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। জাহাজ আটকের প্রতিক্রিয়ায় ইরান ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌযানের দিকে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখন বাকি ২২ নাবিকের মুক্তির বিষয়ের দিকে নজর রাখছে।
এসএফ