স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন অতিদ্রুত ১ লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বিসিএস-এর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৪৪তম বিসিএস-এর মাধ্যমে ৯৮ জন সহকারী সার্জন ও ২২ জন ডেন্টাল সার্জন এবং ৪৮তম বিসিএস-এর মাধ্যমে ২,৯৮৪ জন সহকারী সার্জন এবং ২৭৯ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৪৫তম বিসিএস-এ ৪৫০ জন, ৪৬তম বিসিএস-এ ১,৬৮২ জন, ৪৭তম বিসিএস-এ ১,৩৩১ এবং ৫০তম বিসিএস-এ ৬৫০ টি সহকারী সার্জন নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সিনিয়র স্টাফ নার্স শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে নিয়োগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মিডওয়াইফ পদ পূরণের লক্ষ্যে গত ১৩ মার্চ বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। অতি দ্রুতই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করে শূন্যপদগুলো পূরণ করা হবে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে রাজশাহী-১ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াত) সদস্য মো মুজিবুর রহমানের উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান।
সরকারি দলের সদস্য লুৎফুর রহমান (কক্সবাজার-৩)-এর টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং চিকিৎসা ও নার্সিং শিক্ষার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে দেশের ৩৪ জেলায় এখন পর্যন্ত ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে উল্লিখিত ৩৪ জেলায় ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। জেলাগুলো হলো- ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, কুমিল্লা, খুলনা, বগুড়া, ফরিদপুর, দিনাজপুর, পাবনা, নোয়াখালী, কক্সবাজার, যশোর, সাতক্ষীরা, কিশোরগঞ্জ, কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, জামালপুর, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, পটুয়াখালী, রাঙামাটি, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, নীলফামারী, নওগাঁ, মাগুরা, চাঁদপুর ও সুনামগঞ্জ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, এখনও ৩০টি জেলায় কোনো সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয়নি। এসব জেলা হলো- নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, মৌলভীবাজার, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও শেরপুর। তবে, মুন্সীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, নাটোর, নরসিংদী, ভোলা, শেরপুর ও লক্ষ্মীপুর এই আট জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য বর্তমানে সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) চলছে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে সরকার দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সম্প্রসারণে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এর আগে, বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ-চীন জয়েন্ট সার্জিক্যাল ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশে সব ধরনের টিকা পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। আগামী ৬ মাসে টিকা দিতে কোনো সমস্যা হবে না। টিকার কোনো সংকট নেই। আমাদের ছয় মাসের (টিকা) মজুত আছে, অন দ্য লাইনে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণ। পরবর্তী ছয় মাস পর্যন্ত আমরা ভ্যাকসিন দিয়ে যেতে পারবো।
চীনের সহযোগিতায় স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা এবং যৌথ সার্জিক্যাল ক্লিনিক চালুর মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যেই আজ চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চীন সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণেই এই সমঝোতা হয়েছে। চীন বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক সহায়তাসহ নানামুখী কাজ করে যাচ্ছে, করোনা মহামারির সময়েও চীন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।
চীনের কুনমিং মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে জটিল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসায় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ঢাকা নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
—এজেড