ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ | ৫ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

‘স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার

‘স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ‘কৃষক কার্ড’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ১০টি ভিন্ন ধরনের সেবা পাবেন।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত সেবাসমূহ:

এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্পমূল্যে যন্ত্রপাতি, এবং ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা পাবেন। এছাড়াও সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, বিমা সুবিধা, উৎপাদিত পণ্য বিক্রির সুবিধা, কৃষি প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বাজারের সর্বশেষ তথ্যসহ ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

সরকারের বিশেষ মহাপরিকল্পনাসমূহ:

১. আধুনিক সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি দিয়ে হারভেস্টার ও ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করা হচ্ছে।

২. জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে এবং সিলেট অঞ্চলসহ দেশের চরাঞ্চলের পতিত জমি আবাদের আওতায় আনার বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

৩. কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল ও ক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

৪. চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধেই ২৫ লাখেরও বেশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের জন্য ৪০১ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।

৫. জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় লবণাক্ততা ও খরা সহনশীল জাত উদ্ভাবনে গবেষণা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া ‘খামারি অ্যাপ’ এবং সেচের আধুনিক পদ্ধতি (AWD) প্রয়োগ করে ভূ-গর্ভস্থ পানির অপচয় কমিয়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, জনসংখ্যার বৃদ্ধি ও জমির হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তর করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কৃষককে এই স্মার্ট ‘কৃষক কার্ড’-এর আওতায় নিয়ে আসা হবে।

এসএফ