শিরোনাম
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি

বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার করিডর নির্মাণে বেইজিং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: চীনা রাষ্ট্রদূত

রিপোর্টার / লেখক: গ্লোবাল টিভি বিডি | প্রকাশিত: 02 Jul 2026, 02:52 PM
বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার করিডর নির্মাণে বেইজিং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: চীনা রাষ্ট্রদূত

বৃহত্তর আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার স্বার্থে ‘বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর (বিসিএমইসি)’ নির্মাণে চীন সরকার অত্যন্ত সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

আজ বৃহস্পতিবার চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করে বলেন, এটি পুরোপুরি একটি সংযোগ (কানেক্টিভিটি) প্রকল্প, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। সংবাদ সম্মেলনে এই প্রকল্পে ভারত বা অন্য কোনো দেশের যুক্ত হওয়ার সুযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে ইয়াও ওয়েন জানান, অন্য যেকোনো দেশ চাইলে এই প্রকল্পে যোগ দিতে পারে।

গত ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্যসমাপ্ত চীন সফরকে কেন্দ্র করেই মূলত আজ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে চীনা দূতাবাস। এই সফরকে ‘সম্পূর্ণভাবে সফল’ ও ‘ঢাকা-বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, সফরটি দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং এর মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থার এক নতুন স্তর তৈরি হয়েছে।

এই ঐতিহাসিক সফরে বাংলাদেশ ও চীন তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করেছে। সফরে দুই দেশের মধ্যে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভে (জিডিআই) বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি চীনা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) প্রতিষ্ঠা।

মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ।

পাশাপাশি, এই সফরে চীন প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক বিষয়ে ‘টু প্লাস টু’ (২+২) সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে উভয় দেশের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


বিসিএমইসি প্রকল্প নিয়ে রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করে বলেন, এই করিডর নির্মাণ সম্পন্ন হলে তা শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

উল্লেখ্য, প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় আগে চীন মূলত ‘বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর (বিসিআইএম)’ গড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ভারতের পক্ষ থেকে আশানুরূপ আগ্রহ না পাওয়ায় সেই পরিকল্পনা আর এগোয়নি। বর্তমানে মিয়ানমারের চলমান অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে চীনা রাষ্ট্রদূত মন্তব্য করেন, এ বিষয়ে চীনকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে।

তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নিয়ে কথা বলার সময় ইয়াও ওয়েন বলেন, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রায় এক কোটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। এটি অন্য কোনো দেশকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে না। এটি শুধুই বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার একটি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, এর সঙ্গে অন্য কারও কোনো সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে, দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্পর্কে তিনি জানান, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত বিস্তৃত এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সেই সম্পর্কেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে নির্দিষ্ট কোনো সমরাস্ত্র কেনাকাটার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের পরিচালক ঝাং জিং এবং কাউন্সেলর সং ইয়াং উপস্থিত ছিলেন।

ভিডিও প্রতিবেদন

Live। সংবাদ সারাদেশ। Sangbad Saradesh। News Bulletin। Today News। Global Tv News

এসএফ