শিরোনাম
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি

২ জুলাই; কোটা আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট ও শাহবাগে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন

রিপোর্টার / লেখক: গ্লোবাল টিভি বিডি | প্রকাশিত: 02 Jul 2026, 03:21 PM
২ জুলাই; কোটা আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট ও শাহবাগে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে ২০২৪ সালের ২ জুলাই উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানীর শাহবাগ। সেদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী সড়কে নেমে এসে জানান দেন, তাদের এই আন্দোলন কেবল চাকরির দাবিতে নয়, বরং একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায়।

ভিডিও প্রতিবেদন

শ্রমের ফ্রেমে বন্দি ১৭ লাখ শিশুর জীবন: দায় কার? | Global TV News

  • শাহবাগ অবরোধ ও স্লোগান

২ জুলাই বেলা পৌনে তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে আন্দোলনকারীদের একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি নীলক্ষেত, সায়েন্স ল্যাব ও বাটা সিগন্যাল মোড় ঘুরে শাহবাগ মোড়ে এসে পৌঁছায়। এ সময় পুরো এলাকা ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘১৮-র পরিপত্র পুনর্বহাল করতে হবে’, এবং ‘ছাত্রসমাজ গড়বে দেশ, মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ’ এমন সব জোরালো স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীরা প্রায় এক ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখেন। এরপর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে তারা সড়ক ছেড়ে দিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

  • বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বক্তব্য ও পরবর্তী কর্মসূচি

শাহবাগের সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি শুধু শিক্ষার্থী বা চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলন নয়; এটি রাষ্ট্রের সমান সুযোগ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। তিনি ঘোষণা দেন যে, দাবি আদায়ে ৩ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আবারো অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একই ব্যানারে এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। 

  • দেশব্যাপী আন্দোলনের বিস্তার

একই দিনে এই আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল শেষে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক প্রায় ২৫ মিনিট অবরোধ করে রাখেন। এ ছাড়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসেও একই দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

  • আন্দোলনকারীদের ৪ দফা দাবি

আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত চার দফা দাবির মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো ছিল: ১. ২০১৮ সালের কোটা বাতিল সংক্রান্ত পরিপত্র পুনর্বহাল করা। ২. সরকারি চাকরিতে সব ধরনের অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা। ৩. একই ব্যক্তি যেন একাধিকবার কোটার সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা। ৪. কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে শূন্য পদগুলো মেধার ভিত্তিতে পূরণ করা।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের আগে সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মোট ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত ছিল। সে সময় শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে সরকার ওই বছর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করে। তবে ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট সেই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল সংক্রান্ত অংশটিকে অবৈধ ঘোষণা করলে, শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা নতুন করে আন্দোলনে নামেন। এই প্রেক্ষাপটে ২ জুলাইয়ের শাহবাগ কর্মসূচি পরবর্তী সময়ের বৃহত্তর কোটা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড় (টার্নিং পয়েন্ট) হিসেবে বিবেচিত হয়।

-এসএফ