ঢাকা, শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১ মাঘ ১৪৩২ | ৪ শা‘বান ১৪৪৭

শিরোনাম

উন্নয়নের নামে দেশের অর্থ লুটপাট করা হয়েছে: তারেক রহমান

উন্নয়নের নামে দেশের অর্থ লুটপাট করা হয়েছে: তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা দেখেছি বিগত ১৫-১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে কীভাবে দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। আজকে এই যে ঢাকা থেকে সিলেট বা সিলেট থেকে ঢাকার যে মহাসড়ক; ২০০৫ সালে আমি এসেছিলাম সুনামগঞ্জে, বন্যা হয়েছিল। আমার আসতে লেগেছিল সাড়ে ৪ ঘণ্টার মতন। কিন্তু আজ আজ আমরা দেখি ১০ ঘণ্টার মতন সময় লাগে। সিলেটের এই পূণ্যভূমির মানুষ বহু মানুষ আছেন, যারা লন্ডনে যাতায়াত করেন; লন্ডন যেতেও এত সময় লাগে না প্লেনে করে যেতেও-এই হচ্ছে আজকে উন্নয়নের ফিরিস্তি।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এ জনসভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা করলেন তারেক রহমান। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমান এবং সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও প্রতিবার নির্বাচনের আগে মাজার জিয়ারতের পাশাপাশি সিলেটে প্রথম নির্বাচনি জনসভা করতেন।

তারেক রহমান বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে আমরা দেখেছি, কীভাবে একের পর এক নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়েছে; কীভাবে আমি-ডামির নির্বাচন হয়েছে; কীভাবে নিশি রাতের নির্বাচন হয়েছে। এবং এই নির্বাচনগুলোর মাধ্যমে তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার তথা রাজনৈতিক অধিকারকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আজ আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি সেই মানুষগুলোর জীবনের বিনিময়ে, যারা আমাদের সকলের জন্য রাজপথে নেমে এসেছিল। আমরা একত্রিত হয়েছি সেই মানুষগুলোর জীবনের বিনিময়ে- যারা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছে, অত্যাচারিত হয়েছে। বাংলাদেশের সেই মানুষগুলোর জীবনের বিনিময়ে আজ আমরা আবার এই রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাওয়ার অধিকার আদায়ের পথে নেমেছি।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, প্রিয় ভাই-বোনেরা, সেজন্যই আমরা বলতে চাই- টেক ব্যাক বাংলাদেশ। টেক ব্যাক বাংলাদেশের লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায় করা। সেজন্যই আমরা ২১ দফার কর্মসূচি দিয়েছি। এই ২১ দফার কর্মসূচির মাধ্যমে ইনশাল্লাহ আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠিত হলে আমরা এই ২১ দফার মাধ্যমে এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করতে চাই। ...আমরা ফ্যামিলি কার্ড করতে চাই। প্রতিটি পরিবারকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই- তাদেরকে সাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য। এখানে আপনাদের যাদের সংসার আছে, জানেন- স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে সংসার সুন্দর হয়। যাতে আমাদের মায়েরা আপনাদের পাশে বোনেরা আপনাদের পাশে থেকে সংসারকে সচ্ছলভাবে গড়ে তুলতে পারে। আমরা গ্রামে গ্রামে, শহরে শহরে সকল দুস্থ পরিবার যারা আছে; মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত সকল পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আপনার পরিবার, আপনার মা বা আপনার স্ত্রী আপনার বোনের মাধ্যমে আপনার পরিবার সহযোগিতা পাবে। কিন্তু এই ফ্যামিলি কার্ডকে যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে কী করতে হবে? কী করতে হবে? ধানের শীষকে জয় যুক্ত করতে হবে, পারবেন? ইনশাআল্লাহ।

জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি দলটির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন। জনসভায় শ্রোতা হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা একজনকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান প্রশ্ন করেন, “আপনি কাবা শরিফে গেছেন, কাবা শরিফের মালিক কে?’ ওই ব্যক্তি উত্ত দেন, ‘আল্লাহ’। তিনি জানতে চান, আমরা মুসলমান সবাই, এই দিন-দুনিয়ার আমরা যে এই পৃথিবী দেখি, এই পৃথিবীর মালিক কে? উত্তর আসে, ‘আল্লাহ’। তারেক রহমান আবার প্রশ্ন করেন, “এই সূর্য নক্ষত্র যা দেখি তার মালিক কে?” উত্তর আসে, ‘আল্লাহ’। বিএনপি চেয়ারম্যান প্রশ্ন করেন, “বেহেস্তের মালিক কে?” জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আল্লাহ’। তারেক এবার জানতে চান, ‘দোজখের মালিক কে?’ উত্তর আসে, ‘আল্লাহ’। এসময় উপস্থিত জনতাও সমস্বরে ‘আল্লাহ, আল্লাহ’ উত্তর দিচ্ছিলেন।

এরপর তারেক রহমান বলেন, “আপনারা সকলেই সাক্ষী দিলেন, দোজখের মালিক আল্লাহ; বেহেস্তের মালিক আল্লাহ, এই পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, কাবার মালিক আল্লাহ। আরে ভাই যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কি অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না। তাহলে নির্বাচনের আগেই একটি দল ‘এই দেব, ওই দেব বলছে’; টিকেট দেব বলছে না? যেটার মালিক মানুষ না, সেটার কথা যদি সে বলে,  শেরকি করা হচ্ছে, হচ্ছে না? যার মালিক আল্লাহ, যার অধিকার শুধু আল্লাহর, একমাত্র সবকিছুর অধিকার- উপরে আল্লাহর অধিকার। কাজেই আগেই তো আপনাদেরকে ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পরে তাহলে কেমন ঠকাবে আপনাদেরকে- বোঝেন এবার। শুধু ঠকাচ্ছেই না মানুষকে, যারা মুসলমান তাদেরকে শেরকি করাচ্ছে তারা; নাউজুবিল্লাহ। প্রিয় ভাই-বোনেরা, কেউ কেউ বলে অমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি- এবার একে দেখেন।

“প্রিয় ভাই-বোনেরা, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ, যে যুদ্ধে লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি। সেই মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি। যাদের ভূমিকার কারণে এই দেশের লক্ষ লক্ষ ভাইয়েরা শহীদ হয়েছে। এই দেশের লক্ষ লক্ষ মা বোনেরা- তাদের সম্মানহানি হয়েছে; কাজেই তাদেরকে তো বাংলাদেশের মানুষ ইতোমধ্যেই দেখেই নিয়েছে। এই কুফরির বিরুদ্ধে, এই হটকারিতার বিরুদ্ধে, এই মিথ্যার বিরুদ্ধে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদেরকে ঐ যে টেক ব্যাক বাংলাদেশে থাকতে হবে।  আমরা দেশকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করেছি, এখন মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। শুধু ভোট, শুধু কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করলে হবে না; মানুষকে সাবলম্বী করে নিজের পায়ে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেকটি মানুষ বাংলাদেশের মানুষ যাতে ঠিকভাবে ভালোভাবে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারে। প্রত্যেকটি মানুষ যাতে নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। সেটিই হচ্ছে টেক ব্যাক বাংলাদেশ।