ঢাকা, শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১ মাঘ ১৪৩২ | ৪ শা‘বান ১৪৪৭

শিরোনাম

নির্বাচনকে ঘিরে দেশে একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার চলছে: মির্জা ফখরুল

নির্বাচনকে ঘিরে দেশে একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার চলছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। বিএনপি নির্বাচন চায় এবং জনগণের রায়ের ওপর আস্থা রাখে। জনগণ চাইলে আমরা সরকার গঠন করব, না চাইলে বিরোধী দলে থাকব। বিএনপি ২০২২ সালেই রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে এবং ৩১ দফা ঘোষণা করেছে। আজ যেসব সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, তার অধিকাংশই আমাদের প্রস্তাবনায় ছিল। বিএনপি ধর্মে বিশ্বাসী দল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেছিলেন এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থার কথা ঘোষণা করেছিলেন। ধানের শীষের বিজয়ের মধ্য দিয়েই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর আইডিইবি ভবনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেছেন, এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে দেশ লিবারেল ডেমোক্রেসির (উদার গণতন্ত্র) হাতে থাকবে, নাকি সমস্ত উগ্রপন্থী রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের মধ্যে থাকবে? নির্বাচনকে ঘিরে দেশে একটি অপপ্রচার চলছে, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। নির্বাচন হলে বিএনপি ভূমিধস বিজয় পাবে। ২৩ দিন বাকি আছে নির্বাচনের। এখন অনেকে বলে নির্বাচন হবে না, বাধা দেব। ভেতরে–ভেতরে খবর নিয়ে দেখেন—তাদের তিনটা ভোটও নাই। বড় গলায় বলে নির্বাচন হতে দেব না। তো ভাই, হোক নির্বাচন। দেখা যাক, কে কতটা ভোট পায়। জনগণ যদি আমাদের গ্রহণ করে, আমরা আছি। জনগণ যদি বাদ দেয়, বাদ দিয়ে দেবে। আমরা বিরোধী দলে থাকব। আগে থেকে এত গলাবাজি কেন?

মির্জা ফখরুল বলেন, যে সংস্কার নিয়ে সরকারপক্ষের অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, সেটি বিএনপিই ২০২২ সালে প্রথম সামনে এনেছিল। তাঁর ভাষ্য, ‘আমরা যা যা বলেছি, সব কটি আজকে এখানে আছে। সুতরাং, এই সংস্কার নিয়ে আবার আমাদেরকে প্রশ্ন করে অনেকে—আপনার কি সংস্কারের পক্ষে না বিপক্ষে? এটা তো আমারই সন্তান। আমি তো তার জন্য প্রাণ দিতে পারি। কিছু রাজনৈতিক শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তোমরা কিছুটা বেইমানি করেছ, আমার বলতে কোনো দ্বিধা নেই—যেগুলো আমরা একমত হই নাই, সেগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছ। তারপরও আমরা মেনে নিয়েছি দেশের বৃহত্তর স্বার্থে। যারা অতীতে বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি, স্বাধীনতায় বিশ্বাসই করেনি, তারাই আজকে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যাওয়া যাবে। আমাদের কথা খুব পরিষ্কার। আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। আমাদের নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দিয়েছেন, আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার কথা বলেছেন।’

তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার সবচেয়ে বড় অবদান হলো— বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের মাধ্যমে জাতিকে একটি আলাদা পরিচয় দেওয়া। পৃথিবীতে বাঙালি জাতি অন্যত্রও আছে, কিন্তু এই ভূখণ্ডের মানুষের পরিচয় তিনি বাংলাদেশি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। জিয়াউর রহমান দেশকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন— কখনো কারো কাছে মাথা নত না করতে এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের পতাকা কখনো নিচে নামতে না দিতে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ জিয়াকে নির্মমভাবে হত্যার পর অনেকেই ভেবেছিল বিএনপি শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই পতাকা আবার তুলে ধরেন। বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পরও অনেকে ভেবেছিল দল দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু, আল্লাহর ইচ্ছায় সেই পতাকা আবার তুলে ধরেছেন দলের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২০০২ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে চীন সফরকালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে বলেছিলেন ‘ক্যারি দ্য ফ্ল্যাগ অব ইউর ফাদার অ্যান্ড মাদার’ (তোমার পিতা এবং মাতার পতাকা তুমি ঊর্ধ্বে তুলে ধরো)। মহান আল্লাহর কি ইচ্ছা দেখেন, আজকে আবার তারই হাতে এই পতাকা চলে এসেছে। তারেক রহমান দেশে ফিরে এলে বিপুল জনসমাগমের মাধ্যমে জনগণ তাকে স্বাগত জানিয়েছে।  মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান প্রথমেই বলেছিলেন, ‘আমার একটি পরিকল্পনা আছে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং দেশে শান্তি ও সৌহার্দ্যের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা।’