বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দূরদর্শী ও সাহসী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রথম বিদ্রোহের সূচনা করেন। নিজের জীবন, পরিবার ও সন্তানের ভবিষ্যৎ আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়ে তিনি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর আইডিইবি ভবনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সত্যিকার অর্থে শ্রদ্ধা জানাতে হলে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, তার আদর্শ ও কর্মকে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নের শপথ নিতে হবে। যদি আমরা সত্যিই শহীদ জিয়াকে শ্রদ্ধা করি, তাহলে আমাদের সবাইকে শপথ নিতে হবে আমরা তার মতো দেশপ্রেমিক, সাহসী, সৎ, পরিশ্রমী ও ত্যাগী মানুষ হব। শহীদ জিয়ার সততা নিয়ে তার প্রবল প্রতিপক্ষরাও কখনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি। রাষ্ট্রপতি হয়েও তিনি প্রতিদিন দেশের ও জনগণের স্বার্থে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। দুর্ভিক্ষে বিপর্যস্ত দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার ক্ষেত্রে শহীদ জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। তার নেতৃত্বে খাদ্য উৎপাদন এতটাই বৃদ্ধি পায় যে বাংলাদেশ দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশের জন্য চাল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়।
শিল্পোন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার আমলেই বন্ধ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু হয়। এক শিফটের কারখানায় দুই ও তিন শিফটে উৎপাদন শুরু হয়। তার সময়ে টেক্সটাইল মিল, সার কারখানা, সুগার মিল, ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি এবং ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে শহীদ জিয়া ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসার ঘটান। গার্মেন্ট শিল্পের সূচনা এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেন। নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়, যুব মন্ত্রণালয় এবং কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় গঠনের মধ্য দিয়ে তিনি তার দূরদর্শিতার পরিচয় দেন। আমরা যদি শহীদ জিয়ার আদর্শ অনুধাবন না করি এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের জীবন গড়ে না তুলি, তাহলে তার জন্মদিন উদযাপন অর্থহীন হয়ে পড়বে।’