ঢাকা, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ | ৭ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা

স্মার্টফোনের ন্যূনতম দাম ২৫০০ টাকার মধ্যে আনতে চায় সরকার

স্মার্টফোনের ন্যূনতম দাম ২৫০০ টাকার মধ্যে আনতে চায় সরকার

সরকার দেশে স্মার্টফোনের ন্যূনতম দাম দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে নামিয়ে আনতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেছেন, যাতে গরিব মানুষের হাতেও একটা স্মার্টফোন থাকে, সেজন্য সরকার এই উদ্যোগ নিতে চায়। যাতে তারাও ডিজিটাল সেবা পান। দেশের গরিব মানুষের কাছ থেকে ১০০ টাকার মোবাইল রিচার্জে সরকার সরাসরি ৩৮ টাকা করবাবদ কেটে নিচ্ছে। এটা ঠিক না। টেলিকম সেবায় আরোপিত ট্যাক্স-ভ্যাট কমানো নিয়ে সরকার এরইমধ্যেই কাজ শুরু করছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল হলিডে ইনে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ-টিআরএনবি আয়োজিত ‘নতুন টেলিকম পলিসি : উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রযুক্তিবিদ সুমন আহমেদ সাবির। স্বাগত বক্তব্য দেন টিআরএনবির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন। টিআরএনবির সভাপতি সমীর কুমার দের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি এম এ হাকিম, ফাইবার এট হোমের চেয়ারম্যান মইনুল হক সিদ্দিকী, মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার প্রমুখ।

রেহান আসিফ বলেন, সরকার প্রতি নাগরিকের জন্য একটি একক ডিজিটাল আইডি ও তার সঙ্গে সংযুক্ত ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর পরিকল্পনা করছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নাগরিকের পরিচয় ও আর্থিক লেনদেন একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আসবে। এতে করে সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণ হবে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর। আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এ কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড সেবার বর্তমান চিত্র একটি সমষ্টিগত ব্যর্থতা। তবে একইসঙ্গে এটি একটি বড় সুযোগও তৈরি করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ব্রডব্যান্ড সেবায় পিছিয়ে আছে, যা স্বীকার করে সামনে এগোতে হবে। তাছাড়া সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের মানুষ বা ভোক্তা। দ্বিতীয়ত, ব্যবসা ও অর্থনীতির বিকাশ এবং তৃতীয়ত বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানো। আগামীতে এফডিআই জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে, যা প্রায় ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধির সমান।

তিনি বলেন, টেলিকম খাতকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা উচিত নয়। এটি দেশের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি খাতই বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করা। ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে ৫জি এবং ১০০ এমবিপিএস বা তার বেশি গতির ইন্টারনেটে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এটি চ্যালেঞ্জিং হলেও উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চায় সরকার। একইসঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারও বাড়ানো হবে। এআইকে হুমকি নয়, বরং বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে সরকার। পুরো ভ্যালু চেইন—ডিভাইস, উৎপাদন, সেবা ও রাজস্ব ভাগাভাগি—সবকিছু পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। শিল্পটি আর্থিকভাবে টেকসই না হলে ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ভারসাম্যপূর্ণ কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

—এজেড