ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৭ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে চায় বাংলাদেশ

 ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে চায় বাংলাদেশ

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দুর্নীতি কমিয়ে অর্থনীতিতে আস্থা ফেরানো এবং কর আদায়ে নতুন কৌশল অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। এই বাজেটের অন্যতম বড় লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর নানা অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও সরকার আগের চেয়ে ১৪ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার বিশাল বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা। এছাড়া জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬.৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা।

আইএমএফ-এর শর্ত অনুযায়ী নতুন বাজেটে কর অব্যাহতি ও প্রণোদনা কমিয়ে আনা হবে। সারচার্জের পরিবর্তে সম্পদ কর আরোপ এবং এসএমই খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কর ফাঁকি রোধে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ ও ‘ওয়ান ডিজিটাল আউটলেট’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে প্রতিটি নাগরিকের ব্যাংক হিসাব নিশ্চিত করে কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও হেলথ কার্ড চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, অতীতে বিএনপি সরকারের আমলের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জন সম্ভব। তবে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সতর্ক করেছেন যে, সরকারের ঋণের প্রবণতা বাড়লে বেসরকারি খাতে ঋণের সংকট (ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট) তৈরি হতে পারে।

আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে এই নতুন বাজেট পেশ করার কথা রয়েছে, যেখানে জনসেবা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

এসএফ