শিরোনাম
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি
কোনো শিরোনাম পাওয়া যায়নি

৪ জুলাই: সারাদেশে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক ও আন্দোলনে উত্তাল সব বিশ্ববিদ্যালয়

রিপোর্টার / লেখক: গ্লোবাল টিভি বিডি | প্রকাশিত: 04 Jul 2026, 12:41 PM
৪ জুলাই: সারাদেশে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক ও আন্দোলনে উত্তাল সব বিশ্ববিদ্যালয়

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে চলমান টানা আন্দোলনের চতুর্থ দিন ছিল ২০২৪ সালের ৪ জুলাই। এদিন থেকেই মূলত কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দেশজুড়ে আরো জোরালো ও ব্যাপক আকার ধারণ করতে শুরু করে।

২০২৪ সালের ৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ঝুম বৃষ্টি উপেক্ষা করে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত হন রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তারা টানা পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা শাহবাগ মোড় সম্পূর্ণ অবরোধ করে রাখেন। পরে আন্দোলনকারীরা সন্ধ্যায় পরবর্তী তিন দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে রাস্তা ছাড়েন।

এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীরা আগামী ৬ জুলাই (শনিবার) দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে বিক্ষোভ এবং ৭ জুলাই (রোববার) ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও দেশব্যাপী ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেন। (উল্লেখ্য, মূল প্রতিবেদনের এক স্থানে অসাবধানতাবশত ৭ তারিখ শনি ও ৮ তারিখ রবি লেখা হলেও, আন্দোলনের পঞ্জিকা অনুযায়ী ৬ জুলাই শনিবার ও ৭ জুলাই রোববার ছাত্র ধর্মঘটের এই কর্মসূচি ঘোষিত হয়)। ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল এবং প্রয়োজনে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতেই তারা এই ধর্মঘটের ডাক দেন।

৪ জুলাই (২০২৪) সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপাতত বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর আগে, সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্যান্য কোটা বাতিল করে সরকারের জারি করা পরিপত্রটিকে গত ৫ জুন অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন হাইকোর্ট। এর ফলে সরকারি চাকরিতে (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) পুনরায় ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল হয়ে যায়।

হাইকোর্টের এই রায়ের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক স্থানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ শুরু হয়। অবশ্য রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষও আপিল আবেদন করেছিল।

কোটাবিরোধী এই আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আন্দোলনের সমন্বয়ের সুবিধার্থে দেশব্যাপী ‘কোটা পুনর্বহাল করা চলবে না’ শীর্ষক একটি ফেসবুক গ্রুপ খোলা হয় এবং সেখান থেকেই যাবতীয় আপডেট দেওয়া হতে থাকে। পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা একই নামে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপও চালু করেন।

এদিন থেকেই কর্মসূচিগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক সাড়া মিলতে শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ৪ থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে অভিন্ন আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের আহ্বানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

৪ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী জড়ো হন। এরপর একটি বিশাল মিছিল নিয়ে তারা মাস্টারদা সূর্যসেন হল ও হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের গেট হয়ে ভিসি চত্বর এবং টিএসসির রাজু ভাস্কর্য ঘুরে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি পালন শেষে আন্দোলনকারীরা পুনরায় রাজু ভাস্কর্যে ফিরে গিয়ে নতুন করে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম জানান, শুক্রবার (৫ জুলাই) সারাদেশে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন-অফলাইনে জনসংযোগ ও সমন্বয়, শনিবার (৬ জুলাই) বেলা ৩টায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ এবং রোববার (৭ জুলাই) সব বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের মাধ্যমে ছাত্র ধর্মঘট পালন করা হবে। শনিবারের বিক্ষোভ থেকে রোববারের মাঠের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে কোটাব্যবস্থা আপাতত বহাল রাখার বিষয়ে সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ২০১৮ সালে সরকারের নির্বাহী বিভাগ পরিপত্রের মাধ্যমে কোটা বাতিল করল, অথচ বিচার বিভাগ দিয়ে সেই কোটা আবার পুনর্বহাল করা হলো। এটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি স্পষ্ট প্রহসন এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যে সমন্বয়হীনতার বড় উদাহরণ। নির্বাহী বিভাগ আদেশ দিচ্ছে, আর বিচার বিভাগ তা বাতিল করছে; রাষ্ট্রযন্ত্রের এই অন্তঃদ্বন্দ্বে শিক্ষার্থীদের কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে ৪ জুলাই আন্দোলনে যোগ দিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হলের গেটে তালা ঝুলিয়ে বাধা দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অনেক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক গেস্টরুমে আটকে রাখা হয়। তবে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বিভিন্ন হলে গিয়ে ছাত্রলীগের দেওয়া তালা ভাঙতে ও তাদের হল ছাড়তে বাধ্য করেন।


কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে এদিন রাজধানী ঢাকার বাইরেও দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক-সংলগ্ন ব্যস্ততম ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা, যার ফলে সড়কের উভয় লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দুপুর ১টার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষার্থীরা পুরান ঢাকার ব্যস্ততম রায়সাহেব বাজার মোড় অবরোধ করেন।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি): শিক্ষার্থীরা রাজধানীর আগারগাঁও মোড় অবরোধ করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি): শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ করেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি): শিক্ষার্থীরা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি): শিক্ষার্থীরা খুলনার প্রবেশদ্বার জিরো পয়েন্ট অবরোধ করেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি): শিক্ষার্থীরা কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি): শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে দাবি আদায়ের শপথ নেন।

ভিডিও প্রতিবেদন

দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এক ইঞ্চিও ছাড় নয়; জামায়াত আমির | Global TV News