পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন,ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। প্রধান আসামি ফয়সাল ও তার সহযোগীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন (কনস্যুলার অ্যাক্সেস) চাওয়া হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গতকাল আমরা জানতে পেরেছি, ভারতের কলকাতায় পুলিশ দুজন ব্যক্তিকে হাদি হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে। তাদেরকে সম্ভবত ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে কলকাতার উপ-হাইকমিশন যোগাযোগ করেছে, ভারতের কাছ থেকে কনস্যুলার অ্যাক্সেস আমরা চেয়েছি। আমাদের কাছে যে তথ্য সেটা এখনো যথেষ্ঠ নয়। সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আমরা ভারতের কাছে তা পাওয়া মাত্রই সামনের দিকে এগোতে পারব। অবশ্যই ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দিবিনিময় চুক্তি আছে, যদি এই আসামিরা শনাক্ত হয়...হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার আমরা সবাই চাই।
হত্যাকারীদের কত দ্রুত ফিরিয়ে আনা যেতে পারে এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেটা আমরা এখনো কিছু বলতে পারছি না। এটা অন্য একটি দেশের আদালতের ব্যাপার। মাত্র এই ঘটনা ঘটেছে। আমরা কূটনীতির মাধ্যমে চেষ্টা করছি কনস্যুলার অ্যাক্সেস পেতে। আমাদের নিয়ম মানতে হবে এবং সেটাই আমরা করছি। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তারা পরবর্তীতে কি পদক্ষেপ নেয় সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আশা করছি যে, ভারত আমাদের সে ব্যাপারে সহযোগিতা করবে। কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়ার পর পরিচয় শনাক্ত করতে পারলে এবং সত্যতা যাচাই করলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারব। কলকাতা উপ-হাইকমিশন থেকে যোগাযোগ করেছে, সেভাবে যোগাযোগ হচ্ছে। কলকাতার পক্ষ এখনো থেকে কোনো উত্তর পাইনি। আমরা সেটার জন্য অপেক্ষা করছি।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কোনো যোগাযোগ করেছে কিনা-জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী শামা বলেন, এটা চলমান প্রক্রিয়া। চলমান আছে। আমাদের সরকার মাত্র এসেছে। অবশ্যই আমরা গত ১৭ বছরে বিশেষ করে, জুলাইয়ে শিশুদের হত্যা করেছে শেখ হাসিনাসহ সবার বিচার আমরা চাই। শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে বিএনপি সরকার সচেষ্ট আছে, এটা চলমান থাকবে। ভারতের সঙ্গে অনেক ইস্যু আছে, আমরা ডিজেল চাচ্ছি, পানি চাচ্ছি, সীমানায় হত্যা বন্ধ চাচ্ছি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চায়।