ঢাকা, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ | ৪ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা নেই

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা নেই

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশে সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি একেবারেই ‘সীমিত’ এবং এর ফলে দেশে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা নেই। সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর—বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে—এর প্রকৃত প্রভাব সীমিত রয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে মাঝারি মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক দেশে, যেমন যুক্তরাষ্ট্রে, জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে—কিছু ক্ষেত্রে প্রতি গ্যালন প্রায় ২ দশমিক ৭০ থেকে ২ দশমিক ৮০ ডলার থেকে বেড়ে ৫ ডলারেরও বেশি হয়েছে—যা মূলত বাজারভিত্তিক ও কর-সংক্রান্ত সমন্বয়ের কারণে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বাংলাদেশে জ্বালানির দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয় না; বরং সরকার তা সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন খাতে জ্বালানি ব্যয় সাধারণত মোট উৎপাদন খরচের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লেও উৎপাদন ব্যয় এবং পরবর্তীতে মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। ২০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে একটি বাসে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। মূল্য বৃদ্ধি হলেও ট্রাকে বহনকৃত পণ্য, যেমন- ১০ হাজার কেজি মালামাল—এর ওপর অতিরিক্ত ব্যয় ভাগ হয়ে যাওয়ায় প্রতি ইউনিটে খুব সামান্য প্রভাব পড়ে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি প্রথম দৃষ্টিতে বড় মনে হলেও মূল্যস্ফীতির ওপর এর সরাসরি প্রভাব ততটা বেশি নয়, যতটা সাধারণভাবে ধারণা করা হয়। অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি যাতে ভারসাম্যহীন না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানির দাম সমন্বয়ে একটি পরিমিত ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতি অনুসরণ করেছে, যাতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। সরকার মূল্যস্ফীতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

পাবনা-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ধারাবাহিকভাবে নীতিমালা মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করছে এবং একই সঙ্গে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে এর প্রভাব কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিয়মিত মূল্যায়নের পাশাপাশি সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে বাহ্যিক ধাক্কা অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে না পারে। সরবরাহ ব্যয় কমানোকে একটি প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী লজিস্টিকস খরচ জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ, অথচ আমাদের দেশে তা প্রায় ১৬ শতাংশ, যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এসব খরচ কমাতে বন্দর কার্যকারিতা বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যয় সংশ্লিষ্ট খাত উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। শিগগিরই এর সুফল দৃশ্যমান হবে।

রপ্তানি বহুমুখীকরণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলগুলোর বাইরে নতুন বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব দেশে শুল্ক ও কর বেশি রয়েছে, সেগুলোও চিহ্নিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে আসে, এ পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালানো হচ্ছে, যাতে আমাদের রপ্তানির জন্য আরও ভালো বাজার সুবিধা নিশ্চিত করা যায়।

—এজেড