স্ত্রী সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে ইউরোপের সেই হার কাপানো শীতের মধ্যে একজন ইতালি প্রবাসীর অমানুষিক পরিশ্রমের মধ্যে দিনের পর দিন ঘাম ঝরিয়ে একটাই স্বপ্ন বুনেছিলেন কেরানীগঞ্জের যুবক কাদির হোসাইন। দেশে ফিরবেন, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে গড়বেন সুখের এক ছোট্ট স্বর্গ। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ রূপ নিয়েছে গভীর দুঃস্বপ্নে। প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়, স্বর্ণালংকার এবং বিশ্বাস-সবকিছু ভেঙে স্ত্রী রোজিনা আক্তার তিশা হঠাৎ নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের দাবি, গত ১ এপ্রিল দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বাড়ির অন্য সদস্যরা অনুপস্থিত থাকার সুযোগে রোজিনা ঘরে থাকা নগদ অর্থ, ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে প্রতিবেশী ভাড়াটে যুবক হাফেজ নাজমুলের সঙ্গে চলে যান। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, যাওয়ার সময় তিনি নিজের মাত্র ৪ বছরের কন্যা সন্তানকেও সঙ্গে নেননি।
কাদিরের ছোট ভাই উজ্জ্বল জানান, ২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে কেরানীগঞ্জের আটিবাজার হিজলা গ্রামের শফিউদ্দিনের মেয়ে রোজিনার সঙ্গে কাদিরের বিয়ে হয়। বাবা-মা না থাকায় এবং কাদির দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় সংসারের সব আর্থিক দায়িত্ব ও সঞ্চয় স্ত্রীর কাছেই ছিল।
পরিবারের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই দাম্পত্য কলহ চলছিল। কাদিরের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বিথীর ভাষ্য, প্রবাস থেকে কাদির যে অর্থ পাঠাতেন, তা দিয়ে সংসার ধীরে ধীরে গড়ে উঠলেও সেই টাকার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তার দাবি, স্বামীর পাঠানো অর্থ দিয়ে কথিত প্রেমিককে প্রায় ৬ লাখ টাকার মোটরসাইকেল, দামী আইফোন এমনকি বিদেশ ভ্রমণের খরচও বহন করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশীও ঘটনাটি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষায়, বাইরে থেকে পরিবারটি ছিল সুখী ও স্বচ্ছল। হঠাৎ এমন ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে মেয়ের চলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কান্নায় ভেঙে পড়েন রোজিনার মা নুর সাফিয়াও। তিনি জানান, এমন ঘটনা তাদের পরিবারকেও গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।
সারা জীবনের কষ্টের উপার্জন হারিয়ে কাদির হোসাইন এখন মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। প্রবাস ছেড়ে দেশে ফিরে স্ত্রীর এমন আচরণে তিনি একেবারে ভেঙে পড়েছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্ত পক্ষ উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকিও দিচ্ছে। এই ঘটনায় কাদির হোসাইনের ভাই মো. উজ্জ্বল বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম সাইফুল আলম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী পরিবারের একটাই দাবি-প্রবাসীর রক্ত-ঘামে উপার্জিত অর্থ ও স্বর্ণালংকার দ্রুত উদ্ধার করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।