র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম শহিদুর রহমান বলেছেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে গড়ে ওঠা অবৈধ কর্মকাণ্ডের আস্তানা শিগগির আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। সেখানে যারা অবৈধভাবে বসবাস করছে এবং যারা অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, খুব শিগগির আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নির্মূল করা হবে। অবৈধ কর্মকাণ্ডের এই আস্তানা আমরা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবো- এইটুকু কথা আপনাদের দিতে চাই।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় র্যাব-৭ এর কার্যালয়ে হামলায় নিহত র্যাব কর্মকর্তা নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার জানাজা হয়। জানাজা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে গতকাল সোমবার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র্যাব-৭ এর নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এ ঘটনায় আরও তিনজন র্যাব সদস্য আহত হন। ঘটনার পরপরই যৌথবাহিনী জঙ্গল সলিমপুরের সব প্রবেশমুখে অবস্থান নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে কালো জ্যাকেট পরা র্যাব সদস্যরা অভিযানে গেলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে কয়েকশ মানুষ জড়ো হয়। এরপর সংঘবদ্ধভাবে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। ভিডিওতে মাইক্রোবাস ভাঙচুরের দৃশ্যও দেখা যায়।
হামলায় নিহত র্যাব সদস্যকে ‘শহীদ’ উল্লেখ করে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, সুবেদার মোতালেব শহীদ হয়েছেন। যারা এ ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের আমরা অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসবো। বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে যেন তাদের শাস্তি নিশ্চিত হয়, সেটি যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে। ঘটনাটি মামলার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে এবং বিচারিক রায় কার্যকর হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি র্যাব মনিটর করবে। মোতালেবের পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। আমরা কাউকে ফিরিয়ে দিতে পারবো না, তবে তার পরিবারের দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করেছি। পরিবারটি যাতে আর্থিক ও সামাজিকভাবে কষ্টে না পড়ে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
অভিযানকালে গুলি না চালানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী আমাদের আত্মরক্ষার অধিকার ছিল। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কায় র্যাব সদস্যরা গুলি চালাননি। সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে সাধারণ জনগণ আহত বা নিহত হতে পারতো। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে, কোথাও কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে। ভবিষ্যতে যেন আরও দক্ষ ও সফলভাবে অভিযান পরিচালনা করা যায়, সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হামলায় জড়িত কয়েকজনের নাম এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের অবশ্যই গ্রেফতার করা হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবো। যে কোনো ঝুঁকি নিয়েই হোক, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করবো।