ঢাকা, রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১ |

 
 
 
 

শরীরে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন: রূপগঞ্জে কলি বাহিনীর তাণ্ডব

গ্লোবালটিভিবিডি ৪:৪৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৮, ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীর মাহমুদ, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার করতে স্থানীয় কলি বাহিনীর সন্ত্রাসীরা নিরীহ মানুষের উপর তাণ্ডব চালিয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, শরীরে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন করা হয় এক যুবককে। আরেকজনকে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। তাঁরা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এছাড়া দিনে-দুপুরে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করা হয়। নিরীহ ব্যবসায়ীদের বাড়ি-ঘরে গিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

সোমবার (৮ মার্চ) সকালে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা এলাকায় ঘটে এসব ঘটনা।

একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটলেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করে আসছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্র জানায়, কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল কলির নেতৃত্বে রবিউল, শান্ত, মতিউর, ইসলাম উদ্দিন, মনজুর আলম, বাবু, রোবেল, টুটুল, নির্জন, আলামিন, মাহফুজ, শাকিল, আতাউর, কাকন, ইমনের সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে একের পর এক তাণ্ডব চালিয়ে আসছে।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে কাঞ্চন বাজার এলাকার মন্ডলের বাড়ির সামনে কালাদি এলাকার মৃত শহিদুল্লার ছেলে আব্দুর রহমানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এই বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সুকুমারের বাড়ির সামনে থেকে ধরে নিয়ে রানীপুরা এলাকার মৃত সিদ্দিক ভুঁইয়ার ছেলে নাঈম ভুঁইয়ার শরীরে গরম পানি ঢেলে ঝলসে দিয়ে নির্যাতন করে তারা। গুরুতর আহত দুই জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়া কালাদি এলাকায় অবস্থিত এফ খান ফিলিং স্টেশনের সামনে ফেলে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হাজী মোজাম্মেল হকের ছেলে শাহিন মিয়া ও ত্রিশ কাহনিয়া এলাকার আব্দুল আলীর ছেলে রিফাতের উপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা দু’জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

বেলা ১১টার দিকে রাম দা, চাপাতিসহ অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কলি বাহিনীর সন্ত্রাসীরা কাঞ্চন পৌরসভা কার্যালয়সহ কাঞ্চন বাজার এলাকায় মহড়া দেয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সকালে কাঞ্চন বাজারের ব্যবসায়ী তোফায়েল আহাম্মেদের বাড়িতে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে হুমকি দেয়া হয়েছে। এর আগেও কলি বাহিনী বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগের শেষ নেই।

ঘটনার খবর পেয়ে ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মাহাবুবুর রহমানসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, সন্ত্রাসীদের ভয়ে এখন কাঞ্চন বাজারে সাধারণ মানুষ আসতে চায় না। ভোলাব তদন্ত কেন্দ্র ও কাঞ্চন ফাঁড়ি পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করছে। একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও মামলা হলেও অভিযুক্তদের রহস্যজনক কারণে গ্রেফতার করছে না পুলিশ।

এ ব্যাপারে কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, আমি কাঞ্চনকে শান্ত রাখতে চাই, আর কলি বাহিনী অশান্ত রাখতে চায়। প্রশাসন যেন কোন সন্ত্রাসীকে ছাড় না দেয়, সেই দাবি জানাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত গোলাম রসুল কলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি।

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির বলেন, কলি বাহিনীর সদস্যরা অতিরিক্ত করছে, এখন থেকে আর ছাড় নয়।

এএইচ/জেইউ 


oranjee