ঢাকা, রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১ |

 
 
 
 

মরুভূমির মিষ্টি ফল ত্বীন এখন চাষ হচ্ছে নবাবগঞ্জে

গ্লোবালটিভিবিডি ২:১৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৪, ২০২১

ছবি- সংগৃহীত

সোহেল রানা, হিলি প্রতিনিধি : খাদ্য শস্যের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত উত্তরের জনপদ দিনাজপুর। জেলায় ধান চাষের পাশাপাশি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বিভিন্ন প্রকার ফলের চাষ। প্রতি বছরই জেলায় দেখা মিলছে নানা প্রজাতি বিদেশী ফল। এবার জেলার দক্ষিণের উপজেলা নবাবগঞ্জে চাষ শুরু হয়েছে মরুভূমির মিষ্টি ফল ত্বীন। নতুন এই ফল চাষ শুরু করে এলাকায় মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে উপজেলার কৃষক মতিউর মান্নান। নতুন এই ফলের বাগান দেখতে ভীড় করছেন স্থানীয়রা। শুধু ফল চাষই নয় বরং বাগানটিতে সুযোগ হয়েছে বেশ কয়েকটি পরিবারের কর্মসংস্থানের।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, উত্তরবঙ্গে প্রথমবারের মত এই ফলের চাষ শুরু হয়েছে। এই উপজেলায় ৪ বিঘা জমিতে ৫ প্রজাতির ৯০০ ত্বীন ফলের গাছ লাগিয়েছেন কৃষক মতিউর মান্নান। ইতোমধ্যে বাগানের গাছগুলোতে ফলও আসতে শুরু করেছে।

বাগান দেখতে আসা রোকন ও জুলহাজ বলেন, আমরা শুধু ফেইসবুক, টিভিতে দেখি ত্বীন ফল। পবিত্র কোরআনেও এই ফলের নাম আছে। আজ বাগানে এসে বাস্তবে ফলটি দেখতে পেরে আমাদের অনেক ভালো লাগলো। ফলগুলো দেখতে ডুমুর আকৃতির। গাছে অনেক ফল ধরেছে। এই ফলটি আমাদের এলাকায় প্রথম চাষ হচ্ছে। ফলের বাগান দেখে আমাদের এ রকম বাগান করার ইচ্ছে হচ্ছে। আমরা বাগান দেখার পাশাপাশি মতিউর মান্নানের কাছ থেকে এই ফল চাষের পদ্ধতি সর্ম্পকে অনেক কিছু জানলাম। আমরা ভবিষৎ এ রকম বাগান করবো।

বাগানের শ্রমিক লাবলুসহ বেশ কয়েকজন বলেন, আমরা ১০ জন ত্বীন ফলের বাগানে কাজ করছি। করোনায় কোন কাজ কর্ম ছিলো না। মতিউর ভাই ত্বীন ফলের বাগান করায় এখানে আমাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। এখানে কাজ করে আগের থেকে আমাদের সংসার অনেক ভালো চলছে। মতিউর ভাইয়ের মত এলাকায় আরো যদি কেউ বাগান তৈরি করে তাহলে আরো বেশকিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।

ত্বীন ফল চাষী মতিউর মান্নান বলেন, করোনা মহামারীতে স্থবির হয়ে পড়ে পুরো দেশ। আর এ সময় ব্যবসার পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম আমি। এরপর ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসি। পরে ছোটবোনের পরামর্শে গাজীপুর থেকে ত্বীন ফলের চারা এনে গেলো বছরের অক্টোবর মাসে ৪ বিঘা পতিত জমিতে চাষ শুরু করি। বাগান করতে গিয়ে ২৩ লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ভয় পেলেও চারা রোপণের দেড় মাসের মাথায় গাছে ফল আসতে শুরু করায় আমি খুব খুশি। দুই-একটি করে ফল পাকতে শুরু করেছে। ঢাকার বাজারে ফলটির চাহিদা অনেক, দামও ভালো, প্রতি কেজি ফল বিক্রি হয় এক হাজার টাকা দরে।

তিনি আরো বলেন, বাগান সম্প্রসারণ করতে ইতোমধ্যে আমি গাছে কলম করতে শুরু করেছি। কলমগুলো করে বাগান সম্প্রসারণের পাশাপাশি সেগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে পারবো।

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশে গাজীপুরের পর প্রথমবারের মত আমাদের এলাকায় এই ফলের চাষ শুরু করেছে কৃষক মতিউর মান্নান। ত্বীন ফলটি মরুভূমির এলাকায় বেশি পাওয়া যায়। এটি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু, তাছাড়াও এর ঔষধি অনেক গুনাবলি রয়েছে। কেউ যদি এই ফলের বাগান নতুন করে তৈরি করতে চায় আমাদের কৃষি অফিস তাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। তিনি আরো বলেন, এই ফল চাষাবাদে ও ভালো ফলন পেতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাগান পরিদর্শনসহ মতিউর নামের ওই কৃষককে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

আরকে/জেইউ 

 

 


oranjee