ঢাকা, বুধবার, ১২ মে ২০২১ |

 
 
 
 

বেগমগঞ্জে টাকার বিনিময়ে মেয়েকে ধর্ষণ করে চেয়ারম্যান, মা রিমান্ডে

গ্লোবালটিভিবিডি ২:২৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৩, ২০২১

আলাইয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান। ছবি- সংগৃহীত

আবু রায়হান সরকার, নোয়াখালী : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নে মাদ্রাসাছাত্রীকে একাধিক বার দলবদ্ধ ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ ও অপহরণের ঘটনায় করা মামলার বাদী বিউটি আক্তারের বিরুদ্ধে এবার মামলা করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, বিউটি নিজের মেয়েকে (১৭) জোর করে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করে।

এ মামলায় বিউটি ছাড়া আলাইয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমানসহ আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের বিচারের দাবিতে স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বেগমগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন।

পুলিশ জানায়, মামলায় অভিযুক্ত ১ নম্বর আসামি গত বৃহস্পতিবার রাতে তার মেয়েকে (১৭) ধর্ষণ, বিবস্ত্র করে ছবি ধারণ ও অপহরণ করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে চারজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি মামলা করেন।

মামলার সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে আসামি ফয়সাল, সাইফুল ইসলাম ইমন ও জোবায়েরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার সাভারের পুরগাও এলাকার রুবি নামে একজনের বাসা থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ভিকটিম অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৩ এ বিচারকের কাছে স্বেচ্ছায় ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন।

পুলিশ আরোও জানায়, জবানবন্দি ও মামলার তদন্ত করতে গিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সালে ভিকটিম ধীতপুর দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো। ২০১৭ সাল থেকে ২৮ ডিসেম্বর ২০২০ সাল পর্যন্ত ভিকটিমকে দিয়ে তার মা বিউটি আক্তার জোরপূর্বক টাকার বিনিময়ে দেহ ব্যবসা করিয়েছেন। বিভিন্ন লোকের কাছে থেকে টাকা নিয়ে নিজের মেয়েকে কখনো নিজ বাড়িতে, কখনো ঢাকা-চট্টগ্রামে যৌন কাজের জন্য পাঠাতেন বিউটি।

বিষয়টির প্রতিবাদ করলে কয়েকবার মেয়ের হাত-পা বেঁধে মারধর করেন বিউটি। আগের মামলার সাক্ষী ও বর্তমান মামলার আসামি মোজ্জামেল হোসেন বিউটিকে টাকা দিয়ে ঘরে এসে ওই ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতেন।

একরাতে মোজাম্মেলের সঙ্গে যৌন কাজে লিপ্ত হলে স্থানীয় ফয়সাল ও জোবায়ের দেখে তাদের দুইজনের বিবস্ত্র ছবি ও ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে। এরপর মোজাম্মেলকে বের করে দিয়ে ওই রাতে ভিকটিমকে দলবদ্ধ হয়ে ধর্ষণ করে ফয়সাল ও জোবায়ের। পরে বিউটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমানের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তার বাড়িতে পাঠায় মেয়েকে। বাড়িতে কেউ না থাকায় চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান একা পেয়ে দফায়-দফায় ধর্ষণ করে ওই মাদ্রাসা ছাত্রীকে। পরে চট্রগ্রাম নিয়েও ধর্ষণ করে মাদ্রাসা ছাত্রীকে।

এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার বিকালে আলাইয়াপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ড নাপিতের পোল এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও হীরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী।

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভিকটিম ও গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দীর আলোকে পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে ওই ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতন, আটক রেখে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্যকরণ, অবৈধভাবে অর্থের বিনিময়ে যৌন শোষণ ও স্থানান্তরিত করে যৌনকর্ম করার অপরাধে বিউটি ও চেয়ারম্যানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার বিউটিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চেয়ারম্যান আনিসসহ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান সিকদার জানান, মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ, অপরহণ, নগ্ন ভিডিও ধারণের ঘটনায় আগে দুইটি ও মানবপাচার দমন আইনে আরও একটি মামলা হয়েছে। তিনি নিজেই মামলাটি তদন্ত করছেন। পুলিশ ভিকটিমকে ঢাকার সাভার থেকে উদ্ধার করে। নির্যাতিতা মেয়েটি আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে বলেন, 'তার মা তাকে দিয়ে অনৈতিক কাজ করাতো। বিভিন্ন সময় নিজের বাড়িতে নিজের বসতঘরসহ বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে ওই আসামিসহ অচেনা অনেক খদ্দেরের কাছে নিয়ে অনৈতিক কাজে বাধ্য করতো।'

রাজি না হলে মা তাকে শিকল দিয়ে ঘরের মধ্যে আটক করে নির্যাতন করতো। সোমবার জবানবন্দির কপি হাতে পেয়েই রাতে মামলার প্রধান আসামি ছাত্রীর মা বিউটি আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- ভবভদ্রীর আবদুর রবের ছেলে সামছুল আলম, ধীতপুরের সফিউল্যার ছেলে মোজাম্মেল হক, কামাল হোসেনের ছেলে সামছুল আলম ও মমিন উল্যা।

আরকে/জেইউ


oranjee