ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ |

 
 
 
 

৯ বছর পর

পাবনা জেলা সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২১

ছবি-গ্লোবাল টিভি

আমিনুল ইসলাম জুয়েল, পাবনা : আজ দুপুরে পাবনা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সভা পাবনার নগরবাড়ী ঘাট সংলগ্ন হরিনাথপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। বিগত ৯ বছরের মধ্যে একটিও সভা না হওয়ায় সাধারণ সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মালিক সদস্যরা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবহন মালিক আব্দুর রাজ্জাক। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু। সদ্য সাবেক সভাপতি আজিজুল হক আরজুর অনুপস্থিতিতে এ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথি রেজাউল হক বাবু বলেন, একজন সাবেক এমপি ও আ. লীগের একজন নেতা আজিজুল হক আরজু পরিবহন মালিক সমিতি নিয়ে যে অগণতান্ত্রিক কাজ করেছেন তা দু:খজনক। তিনি অন্যের অধিকার হরণ করছেন, নিজেও তাঁর অবস্থান হারিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, নগরবাড়ী ঘাটে যেখানে সরকার একটি নৌবন্দর গড়ে তুলছেন সেখানে অগণতান্ত্রিক কাজ-কর্ম চলতে পারেনা। তিনি অবিলম্বে ভোটের মাধ্যমে পরিবহন মালিক সমিতির নির্বাচন করার আহ্বান জানান। নতুন গণতান্ত্রিক কমিটি হলে পরিবহন মালিকরা তাঁদের নায্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

সমিতির সেক্রেটারি ও আ. লীগ নেতা, পুরাণভারেঙ্গা ইউপির চেয়ারম্যান এ এম রফিকুল্লাহ জানান, পুরো কমিটি সদ্য সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি আজিজুল হক আরজুর হাতে জিম্মি ছিল। তিনি বলেন, আজিজুল হক আরজু সমিতির পুরো হিসাব দিতে কোষাধ্যক্ষকে বাধা দিয়েছেন। সাধারণ সভায় উপস্থিত না হয়ে তিনি সমিতির সব কাগজপত্র তালাবদ্ধ করে ঢাকায় চলে গেছেন। তিনি বলেন, তাঁর স্বৈরাচারি কাজের জন্য সমিতির স্বচ্ছ হিসাবও প্রদান করা সম্ভব হয়নি।

সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান মুকুল বলেন, সমিতির নাম ভাঙিয়ে ‘পুকুর চুরি’ করা হয়েছে। আর এটি করেছেন সদ্য সাবেক সভাপতি আজিজুল হক আরজু।

আব্দুল হালিম নামের একজন পরিবহন মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ৬-৭টি গাড়ি ছিল। করোনাকালীন দুর্যোগে পড়ে আমি ১০ চাকার একটি গাড়ি মাত্র ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি। ব্যবসায়িক বিপর্যয়ের কারণে আরো গাড়ি বিক্রি করার পরিস্থিতি হয়েছে। আমার মত আরো অনেক পরিবহন মালিক এমন বিপদে থাকলেও মালিক সমিতি কোন কাজে লাগেনি। সমিতির সদ্য সাবেক সভাপতি, সাবেক এমপি ও আ.লীগ নেতা আজিজুল হক আরজুর স্বৈরাচারিতা ও ক্ষমতা অপব্যবহার করায় সমিতিটি অকার্যকর হয়ে রয়েছে।

শাহ আলম মোল্লা জানান, ‘সাবেক এমপি আরজুর মত পরিবহন নেতা দরকার নেই। তিনি একজন ভন্ড। তাকে ভন্ডামি বাদ দিয়ে তওবা করে ভাল হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি তাঁর উদ্দেশ্যে বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে নেতা হওয়ার চেষ্টা করা দরকার। অন্যথায় অরাজকতা দিয়ে টিকে থাকা যাবে না। এমনকি এলাকায়ও ঠাঁই হবে না। বাড়ির পাশের যমুনায় ভেসে যেতে হবে।

আব্দুল বারেক নামের এক পরিবহন মালিক বলেন, নগরবাড়ী এলাকার পরিবহন মালিকরা ঘাটের ভাড়া পান না। ভাড়া দেয়া হয় অন্য এলাকার পরিবহন মালিকদের। কারণ, তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করা যায় সহজেই।

শেখ রুবেল নামের পরিবহন মালিক বলেন, আমরা রক্তচোষা নেতা চাই না। চাই পরিবহন মালিক বান্ধব নেতা। বক্তারা নতুন নির্বাচন করে গণতান্ত্রিক উপায়ে নেতা নির্বাচনের দাবি জানান।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কাবুল মন্ডল, প্রভাষক হাফিজুর রহমান, আ.লীগ নেতা নাছির উদ্দিন ব্যাপারি, শাহজাহান আলী সাজু প্রমুখ।

শেষে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সভা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।

এদিকে, পাবনা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সদ্য সাবেক সভাপতি আজিজুল হক আরজুর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

আরকে/জেইউ 


oranjee