ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ |

 
 
 
 

গ্লোবাল টিভি অ্যাপস

বাগেরহাটে বেড়িবাঁধ না থাকায় চরম দুর্ভোগ

গ্লোবালটিভিবিডি ৭:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০

ছবিঃ সংগৃহীত

এস.এস শোহান, বাগেরহাট: ৯৫ কিলোমিটার  জুড়ে বেড়িবাঁধ না থাকায় বাগেরহাটের তিনটি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের কয়েক লক্ষ মানুষ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। এতে পোহাতে হচ্ছে নানা ভোগান্তি।

মোরেলগঞ্জের বহরবুনিয়া, জিউধরা, মোংলার চিলা, বুড়ির ডাঙ্গা, সুন্দরবন, রামপালের ভোজপাতিয়া, পেড়িখালি, হুড়কা ও রামপাল সদর ইউনিয়নগুলো নদী সংলগ্ন হলেও ঝড় জলচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার জন্য নেই কোন বেড়িবাঁধ।  ফলে এসব ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষকে বসবাস করতে হয় জোয়ার ভাটার নিয়ম মেনে। তবে এসব ইউনিয়নের মানুষকে ঝড় জলচ্ছ্বাস ও লবন পানির হাত থেকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন মন্ত্রণালয়ে।

বলেশ্বর, পানগুছি, কেওড়া, ঘষিয়াখালী নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা জনপথের মধ্যে বহরবুনিয়া, জিউধরা, চিলা, বুড়ির ডাঙ্গা, সুন্দরবন, ভোজপাতিয়া, পেড়িখালি, হুড়কা ও রামপাল সদর ইউনিয়নে কোন বেড়িবাঁধ নেই। এসব এলাকায় চলাচলের জন্য সড়ক পথও তেমন উন্নত নয়।

স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। উন্নয়ন ও জনগণের জান মালের নিরাপত্তার জন্য উপকূলীয় জনপথে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছে সরকার। কিন্তু নদী সংলগ্ন হওয়া সত্ত্বেও অনেক ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ হয়নি।

বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ঔষধ ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, আমরা দেশের একটি দীপ ইউনিয়নে বসবাস করি। এই ইউনিয়নের চারপাশেই নদী। নদীর পানি থেকে রক্ষার জন্য আমাদের ইউনিয়নে কোন বেড়িবাঁধ নেই। ইউনিয়ন থেকে কোথাও যেতে হলে নৌকা বা ট্রলারই একমাত্র ভরসা। ইউনিয়নের অভ্যন্তরের রাস্তাঘাটও অনেক খারাপ।

স্থানীয় মো. মাসুদ শিকদার বলেন, আমরা বিচ্ছিন্ন একটি এলাকায় বসবাস করি। রাস্তা-ঘাট নেই। ভাল স্কুল-কলেজ নেই। নেই হাসপাতাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় বাজারের জন্য আধুনিক মার্কেট। এরপরও বাপ-দাদা এখানে বসবাস করেছেন। তাই আমরাও আছি। তবে এই ইউনিয়নের মানুষদের রক্ষার জন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণ না করা হলে এক সময় ইউনিয়ন ছেড়ে বেশিরভাগ মানুষ অন্যত্র পাড়ি জমাবেন।

লতিফ তালুকদার বলেন, ইউনিয়ন থেকে বের হওয়ার একমাত্র মাধ্যম নৌকা ও ট্রলার। আর ইউনিয়নের ভেতরেও নেই তেমন ভাল রাস্তা। যেটুকু মাটির রাস্তা রয়েছে তাও ঘের করার জন্য প্রভাবশালীরা কেটে নষ্ট করে ফেলেছেন। আসলে আমরা কোথায় যাব জানিনা।

বহরবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার রিপন হোসেন বলেন, যুগযুগ ধরে জোয়ার ভাটার সাথে তাল মিলিয়ে জীবন চলছে আমাদের। আমাদের এলাকার ৩৬ হাজার মানুষ সব সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকে। নদী ও খালে একটু পানি বৃদ্ধি পেলেই ঘরের সামনে তলিয়ে যায়। নদী ও খালে লবন পানি থাকায় ধান ও সবজি তেমন হয় না।

চেয়ারম্যান তালুকদার রিপন হোসেন বলেন, বিভিন্ন কারণে স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের এই ইউনিয়নে কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। আজ বিংশ শতাব্দীতে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা ইউনিয়নের জন্য একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানাই। তাহলে লবন পানির অত্যাচার ও ঝড় জলোচ্ছাসের হাত থেকে আমরা রক্ষা পাব।

রামপাল উপজেলার ভোজপাতি ইউনিয়নের নুরুল আমিন বলেন, আমার ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ না থাকায় নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। স্থানীয়রা সব সময় আতঙ্কে থাকে, কখন পানি এসে বাড়ি-ঘর তলিয়ে যায়। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে জলোচ্ছাস হলে রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে যায়, মৎস্য ঘের ভেসে যায়। যদি বেড়িবাঁধ থাকত তাহলে এ ধরনের সমস্যা হত না।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিদুজ্জামান খান বলেন, ৩৫/২ পোল্ডারের আওতায় মোরেলগঞ্জের সন্নাসী থেকে রামপাল হয়ে মোংলার জয়মনির ঘোল পর্যন্ত প্রায় ৯৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করি, প্রকল্পটি অনুমোদন হলে ওই অঞ্চলের মানুষের দূর্ভোগ কমবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন ঘটবে।

এমএস/জেইউ


oranjee