ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ |

 
 
 
 

কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ শুরু, ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:১৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২০

ছবি- গ্লোবালটিভি

প্রান্ত রনি, রাঙ্গামাটি : তিন মাস ১০ দিন রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার পর মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে মাছ আহরণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিএফডিসির তিনটি (রাঙ্গামাটির কাপ্তাই ও মহালছড়ি) বিপণনকেন্দ্রে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে মাছ নিয়ে আসছেন জেলেরা। এদিকে শতদিন পর মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় খাতসংশ্লিষ্টদের মাঝেও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। কাজে ফিরেছেন শ্রমিক-কমচারী, ব্যবসায়ীসহ সকলেই। চালু হয়েছে বিএফডিসির তিনটি বরফকলও।

জেলে ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর প্রথম দিনে অনেক বেশি মাছ আহরিত হয়েছে। আহরিত মাছের মধ্যে ছোট মাছের আধিক্য বেশি। এছাড়া এ বছর প্রথম দিকেই অতিরিক্ত মাছ আহরণের অন্যতম কারণ হলো কাপ্তাই হ্রদে পানি স্বল্পতা। হ্রদে পানি কম থাকায় এতে করে মাছ ধরা পড়ছে বেশি।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) সূত্র জানায়, কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের বংশ বৃদ্ধি, হ্রদে অবমুক্ত করা পোনা মাছের সুষম বৃদ্ধি, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরাসহ হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির সহায়ক হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতি বছরের পহেলা মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। বছরের আগস্ট থেকে শুরু হয় নতুন মৌসুম। আগস্ট থেকে পরবর্তী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এই নয় মাসকে মৌসুম ধরা হয়। তবে এ বছর কাপ্তাই হ্রদে পানি কম থাকায় অন্যান্য বছরের চেয়ে ১০ দিন পর অর্থাৎ, ১১ আগস্ট থেকে মাছ আহরণ শুরু হয়েছে।

বিএফডিসির রাঙ্গামাটি বিপণনকেন্দ্রে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান, তিন মাস ১০ দিন মাছ ধরা বন্ধ ছিল। তাই আমাদের কাজকর্মও ছিলো না। এখানকার অনেকেই কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্ভরশীল। অনেকেরই আয় রোজগারের জায়গা বিএফডিসি। এখন আবার মাছ ধরা শুরু হলো। আমরা দীর্ঘ অলস সময় পার করে কাজে যোগ দিলাম।

কয়েকজন পাইকারি মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় হ্রদে এ বছর পানির পরিমাণ অনেক কম। এই কারণে প্রথম দিনে অনেক মাছ ধরা পড়েছে যা অন্যান্য মৌসুমের চেয়ে অনেক ভালো। কিন্তু এখন যদি কম পানিতে সব মাছ ধরা পড়ে যায়। তবে মৌসুমের শেষ সময়ে হ্রদে মাছ আহরণ হবে না।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙ্গামাটি বিপণনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতি বছরই কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের বংশ বৃদ্ধি, হ্রদে অবমুক্ত করা পোনা মাছের সুষম বৃদ্ধি, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরাসহ হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির সহায়ক হিসাবে গড়ে তোলার জন্য ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এ বছর তাই দেয়া হয়েছে। তবে হ্রদে পানি কম থাকায় আমরা পানির অপেক্ষায় ১০ দিন পর আহরণ চালু করেছি।


আরকে/জেইউ


oranjee