ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০ | ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

 
 
 
 

কক্সবাজার শহরকে রেড জোন চিহ্নিত করে অবরুদ্ধ ঘোষণা

গ্লোবালটিভিবিডি ৪:৪৩ অপরাহ্ণ, জুন ০৫, ২০২০

ফাইল ছবি

জসিম উদ্দীন, কক্সবাজার : কক্সবাজার জেলায় প্রাণঘাতি করোনার ভাইরাস ভয়াবহ বিস্তারলাভ করেছে। জেলায় প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা, লম্বা হচ্ছে করোনায় মৃত্যুর মিছিল। এর মধ্যে আবার কক্সবাজার ল্যাবের টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে বৃহস্পতিবার ও শুক্রুবার টানা দুইদিন কক্সবাজার জেলায় নমুনা সংগ্রহ পরীক্ষা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

তবে মঙ্গলবার ৩জুন পর্যন্ত জেলায় ৮৮৬ জন করোনা রোগি শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে মোট ১৭জন। সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত ও মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজার পৌর শহরে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সিভিল সার্জন ড.মাহবুব রহমান।

এদিকে করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় দেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজার পৌরসভাসহ জেলার কয়েকটি এলাকাকে ‘রেড ও ইয়েলো জোনে ভাগ করা হচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টি ওয়ার্ডকে রেড জোন হিসেবে চিহৃত করা হয়েছে। এর বাইরে ১ নম্বর ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডকে ‘ইয়োলো জোন’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অতিমাত্রায় করোনা সংক্রমণের কারণে ‘রেড জোন’ এলাকা গুলো সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

রেড জোন এলাকায় আগামী দুই সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসন। প্রয়োজনে লকডাউনের সময় আরো বাড়তে পারে। রেড জোন ঘোষিত এলাকা থেকে কোন লোক বাইরে যেতে পারবেন না, আবার প্রবেশ করতে পারবেন না। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌর শহরকে অবরুদ্ধ করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শনিবার ৬জুন থেকে তা কার্যকর করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

সূত্রমতে, সম্মিলিত ভাবে কক্সবাজার পৌরসভায় লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে। পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে কমিটি থাকবে। কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলরগণ কমিটির প্রধান হবেন। প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে যুবক, ছাত্র, সমাজকর্মী নিয়ে একটি করে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হবে। কমিটিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনীর সদস্য, পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, রেড জোন হিসাবে চিহ্নিত এলাকাগুলো সম্পুর্ণভাবে অবরুদ্ধ করা হবে। লকডাউন চলাকালীন সময় এসব এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষকে সরকারিভাবে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মাত্রা কমাতে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জরুরি কাজের সাথে জড়িতরা রেড জোনে সীমিত আকারে আসা যাওয়া করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন জানান, কক্সবাজারের সচেতন নাগরীকদের অনুরোধ বিবেচনায় নিয়ে পৌরসভাকে লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন। যেটি শনিবার থেকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রয়োজনে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে এবার বল প্রয়োগ করা হবে বলে জানান ইকবাল হোসাইন।

একইভাবে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যার ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলাকে তিনটি জোনে বিভক্ত করা হয়েছে। জেলার আটটি উপজেলাকে ইউনিয়নভিত্তিক ও চারটি পৌরসভায় ওয়ার্ড ভিত্তিক বিন্যাস করে ম্যাপ তৈরী করা হয়েছে।

আরকে


oranjee