ঢাকা, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ | ১২ মাঘ ১৪২৬

 
 
 
 

টানা বৃষ্টিতে ঈশ্বরদীর সবজি-ধানের ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি

গ্লোবালটিভিবিডি ২:৫০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০১৯

ছবি সংগৃহীত

পাবনা প্রতিনিধি: ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে দুইদিনের হঠাৎ বৃষ্টিতে পাবনার ঈশ্বরদীতে সবজি পল্লীতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিম, পেঁপে, মরিচ, ঢেরস, চিচিংগা, করলা, ঝিঙ্গেসহ অন্যান্য নানা রকম সবজি ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার অনেক জায়গায় আধাপাকা ধানের ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

রোববার সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন করতে গেলে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা জানান, আমরা নতুন ধানের আশাতে বুক বেঁধে ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে আমাদের কষ্টের ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যেখানে প্রতি বিঘা জমিতে ১৫ থেকে ২০ মন ধান হতো সেখানে ৫ মন ধান হওয়ারও সম্ভাবনা নেই বলে তারা জানান। এছাড়া শিম, পেঁপে, মরিচ, ঢেরস, চিচিংগা, করলা, ঝিঙ্গেসহ অন্যান্য সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত কৃষক বেলি বেগম বলেন, তার দুই বিঘা শিম ক্ষেতে জলাবদ্ধতায় পানি বেঁধে থাকায় ফলন্ত শিম গাছ মরে যাচ্ছে। এছাড়া ৫ বিঘা জমির আধাপাকা ধান মাটিতে পড়ে যাওয়ায় তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমার মতো কষ্ট করে ধান লাগিয়ে যে সকল কৃষক লাভের আশায় বুক বেঁধেছিলেন তাদের গোলায় এবার ধান উঠবেনা।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজ বলেন, টানা বর্ষণে এবছর ঈশ্বরদীতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, এবার তার খামারে ৪ বিঘা জমিতে টমেটোর চারা লাগিয়েছিলেন। টানা বৃষ্টির কারণে তা মরে যাচ্ছে। ময়েজ বলেন, অতি বৃষ্টির কারণে তার খামারের ৫ হাজার ফলন্ত পেঁপে গাছ মারা গেছে। তিনি সরকারের কাছে ঈশ্বরদীর ক্ষতিগ্রহস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।


পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক কৃষিবিদ আজাহার আলী জানান, অতি বর্ষণের কারণে এবছর ঈশ্বরদীতে কৃষকের উৎপাদিত উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, শিম, পেঁপে, মরিচ, ঢেরস, চিচিংগা, করলা, ঝিঙ্গে, পেঁপে গাছ পানি সহ্য করতে পারেনা। জমিতে পানি জমলে এসব গাছ মারা যায়। যাদের এধনের সবজি মারা গেছে তাদের স্বল্প মেয়াদি সবজি আবাদের জন্য কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। জলাবদ্ধ জমি থেকে পানি বের করার জন্য অতিদ্রুত কৃষকদের নালা তৈরির পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।

এআইজে/আরকে


oranjee