ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০ | ৪ মাঘ ১৪২৬

 
 
 
 

বইপ্রেমী ফেরিওয়ালা কবি আবদুল হালিমের গল্প

গ্লোবালটিভিবিডি ৮:৪০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯

কবি আবদুল হালিম

ফরাজী মো. ইমরান, পটুয়াখালী : কন্ঠযোদ্ধা কবি আবদুল হালিম। স্বাধীনতার আগে থেকেই শুরু করেন বই বিক্রি। যুদ্ধের সময় বিভিন্ন উপজেলার মুক্তি বাহিনীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বই আকারে তৈরি করে ছড়িয়ে দিতেন পুরো পটুয়াখালী জেলায়। বর্তমানে গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শহরে তার লেখা বই ফেরি করে বিক্রি তুলে ধরছেন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস। তবে আজ ৮৩ বছর বয়সেও তিনি পাননি কণ্ঠ যোদ্ধার স্বীকৃতি।

পটুয়াখালী জেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মৃত আবদুর রহমান গাজীর ছেলে কবি আবদুল হালিম ব্রিটিশ আমলে ক্লাশ ফাইভ পাশ করেন। পরে আর্থিক দৈন্যতায় তিনি লেখাপড়া ছেড়ে দেন। ওস্তাত আবদুল মান্নানের অনুপ্রেরণায় শুরু করেন কবিতা লেখা। আঞ্চলিক ভাষায় তার লেখা গান, কবিতা ও ছড়া মিলিয়ে তৈরি করেন বই। আবার এই বই নিজেই পথে প্রান্তরে ঘুরে ছন্দের হাক ডাকে বিক্রি শুরু করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় গভীর রাতে কিংবা সবার অগোচরে দেখা করতেন মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে। অনুপ্রেরণা যোগাতেন মুক্তিবাহিনীকে। তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আঞ্চলিক ভাষায় গান কবিতা কিংবা ছড়ার মাধ্যমে সেটা ছড়িয়ে দিতেন পুরো বরিশাল বিভাগে।

বর্তমানে এই কবি দেশের বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে তার লেখা (আঞ্চলিক ভাষায়) স্বাধীনতার ইতিহাস, শেখের জীবন কাহিনী, শেখ হাসিনার বিজয়, এরশাদ শিকদারের ফাঁসি, শহারভানুর স্বামী উদ্ধার, আবদুল আলী গারুলি ও নিবারুনের করুণ কাহিনীসহ বিভিন্ন গল্পের বই বিক্রি করছেন।

এসব বই বিক্রি করে দীর্ঘ ৬২ বছর যাবৎ সংসারের ভরণপোষণসহ সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়েছেন। তবে তিনি কন্ঠ যোদ্ধার স্বীকৃতি না পেলেও মনে কোন দুঃখ নেই। একটাই দুঃখ বারবার চেষ্টা করে তিনি শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে পারেননি। মৃত্যুর আগে একবার হলেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার লেখা কবিতা শুনাতে চান।

এফএমআই/এমএস


oranjee