ঢাকা, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০ | ২৪ আষাঢ় ১৪২৭

 
 
 
 

সীমিত ধারায় ঘুরে বেড়ানো

গ্লোবালটিভিবিডি ১২:১১ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২০

ছবি: দে-ছুট ভ্রমণ সংঘ

মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম : অন্ধকার রাতের রেশ তখনো কাটেনি। আনুমানিক সময় তখন ভোর সাড়ে চারটা। বন্ধু জসিমকে ফোন দিলাম। রাত যত গভীর কিংবা সকাল-ওর আয়েশি ঘুম যা-ই হোক না কেন আমার ফোন পেলে সে ধরবেই। বললাম, ঘুরতে যাব। ফজর নামাজের জন্য সময় চেয়ে নিলো।

এরপর দু'জনে গিয়ে মিললাম নামাবাজার ব্রিজে। বংশী নদীর উপর করা ব্রিজটি উদ্বোধন হবার পর হতেই এ পাশটায় ভ্রমণ পিপাসুদের বেশ আনাগোনা বেড়েছে। এপার সাভার আর ওপার হল ধামরাই উপজেলা। ভোরের হাওয়ায় ব্রিজ হতে দেখা বংশীর সৌন্দর্যও কম যায় না। বংশী নদীর রূপ দেখে এবার হাঁটতে শরু করলাম মাখালিয়ার পথে। কিন্তু কিছুটা গিয়েই মত পাল্টে ধলেশ্বরী যাবার পথ ধরলাম। হাঁটতে হাঁটতে নদীর ঘাটে। খেয়ার অপেক্ষায় দাঁড়াই বটগাছ তলায়। টুপটাপ করে লাল টকটকে বট ফল ঝরে পড়ে। অসময়েও কোকিলের সুরেলা কণ্ঠের কুহুকুহু ডাক। ঝরে পড়া বটফলে গাছতলা মালার মত বিছিয়ে রয়েছে। ধলেশ্বরীর রূপটাও বেশ মোহনীয়।

পুরো ঘাটে একটিই মাত্র নৌকা। এ পাশটায় নদী খুব প্রশস্ত নয়। তাই একটি নৌকা দিয়েই হয় সারা বছর মানুষ পারাপার। ওই ফাঁকে নদীপাড় ঘুরে দেখি। ঘাটে নৌকা এলে উঠে বসি। মৃত ধলেশ্বরী নতুন পানি আসার সমাগমে কিছুটা প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আফসোস হয় নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলোর বেহাল চিত্র দেখলে। নদী বাঁচাও, নদী রক্ষা করো-কত সভা-সেমিনার! দিন শেষে যে লাউ সে কদুই।

নদী নিয়ে ভাবতে ভাবতে খেয়া ঘাটে নৌকা ভেড়ে। হাঁটতে হাঁটতে গ্রামের মেঠোপথে ঢুকে যাই। গ্রাম আর গ্রাম নাই। আগের মত মনে হয় মানুষগুলোও এখন আর নাই। তারাও হয়ত সারারাত ফেসবুকিং, ইউটিউবে সময় কাটিয়ে সুন্দর সকালটা ঘুমিয়েই কাটিয়ে দেয়। যে কারণে নেই তেমন জনমানব। হাঁটতে হাঁটতে কাঁঠাল গাছতলায়। মূলত আজকের প্রাতঃভ্রমণ ফলদ ও সবজি গাছ চেনা। কিছুটা সময় ফটোসেশনের পাশাপাশি কাঠলিচু ও গাব গাছ চেনা হল। বলে রাখা ভালো, সবজি ও ফলদ গাছগুলো একজন দক্ষ শিক্ষকের মত বন্ধু জসিম চিনিয়ে দেয়ার দায়িত্বে ছিলো। গাছ চিনতে চিনতে যখন সবজি ক্ষেতের দিকে যাই তখন তো চোখ চড়কগাছ। কুয়াশা ঢাকা সকাল, আর ঘাসে ঘাসে রয়েছে শিশির বিন্দু। বাংলা সনের দ্বিতীয় মাস জ্যৈষ্ঠ যাকে বলা হয় কাঁঠাল পাকা গরম। গ্রীষ্মে শিশির বিন্দু দেখতে পাওয়া ভ্রমণে এক নতুন অভিজ্ঞতা।

হাটঁতে হাঁটতে গ্রামের আরো গভীরে যেতে থাকি। সঙ্গী হয় প্যাঁচাসহ আরো নানান পাখি। জমির পর জমি। চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, করলা, কচু ও পাট শাকের ক্ষেত। চক পেরিয়ে লোকালয়ে যেতেই দেখি, ধলেশ্বরীর এ পাশটাও ফোর্ডনগর গ্রামে ঢুকে গেছে। নদীর তীর ধরে হাঁটতে থাকি। চোখে পড়ে নানান ফলের গাছ। পাকা খেজুর টুপ করে ঝরে পড়ে। পেঁপে গাছের দিকে তাকাতেই দেখি, টসটসে পাকা পেঁপে। মালিক খুঁজে বের করি। ভদ্রলোক একপ্রকার জোর করেই গিফট করলেন। নগদেই পেঁপে কেটে শুরু হয় খাওয়া। খাই আর বলি, হেব্বি টেস্ট। আসলে ফরমালিন ছাড়া ফলের স্বাদই হয় ভিন্ন রকম। ছোট্ট একটা ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নিয়ে এগুতে থাকি। হাঁটতে হাঁটতে গুদারাঘাট। বিশাল সাইজের কাঁঠাল কিনে বাড়ির পথ ধরি।

যাবেন কিভাবেঃ ঢাকার গুলিস্তানসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড হতে ধামরাই, আরিচাগামী বাস ছেড়ে যায়। নামতে হবে সাভার থানা অথবা বাজার বাসস্ট্যান্ড। সাভার হতে রিকশা/ অটোতে নামাবাজার ব্রিজ কিংবা ফোর্ডনগর গুদারাঘাট। জনপ্রতি ৫ টাকা ভাড়ায় খেয়া পার হয়ে ইটের সলিং করা সড়কে না গিয়ে মেঠোপথ ধরে হাঁটতে থাকবেন।

এএইচ/জেইউ


oranjee