ঢাকা, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ |

 
 
 
 

টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারালো বাংলাদেশ

গ্লোবালটিভিবিডি ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৪, ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে হারালো বাংলাদেশ। মঙ্গলবার প্রথম ম্যাচে ২৩ রানের জয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে শুভ সূচনা হলো টাইগারদের। অস্ট্রেলিয়া যেমন খর্বশক্তির ব্যাটিং লাইন-আপ নিয়ে এসেছে, বাংলাদেশ দলেও তেমন ছিলেন না তামিম-মুশফিক-লিটনরা। তাঁদের ছাড়াই দারুণ জয় পেল বাংলাদেশ। এর আগে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার বার টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হলেও একবারও জিততে পারেনি বাংলাদেশ।

প্রথমবারের এই জয়ে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন বোলাররা। ম্যাচসেরা নাসুমের ৪ উইকেটের পাশাপাশি বাকিরাও দারুণ বল করেছেন।

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৩২ রান তোলে বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্কের করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ছক্কা মেরে নিজের ও দলের রানের খাতা খোলেন নাঈম শেখ। পরের ওভারে হ্যাজেলউড দেন ২ রান। সৌম্য সরকারকে চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলে বোল্ড করে দেন জোস হ্যাজেলউড।

উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া নাঈমকে থামান জাম্পা। তাঁর বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান ২৯ বলে ২ চার ২ ছক্কায় ৩০ রান করা নাঈম। ৭ম ওভারে দলীয় ৩৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর দায়িত্ব নেন দুই সিনিয়র সাকিব আর মাহমুদউল্লাহ। অ্যাস্টন আগারের বলে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ ছাড়েন টার্নার। ৩১ বলে ৩৬ রান তোলা এই জুটি ভাঙে মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে। ১৩তম ওভারে হ্যাজেলউডের বলে ম্যাট হেনরিকসের তালুবন্দি হন ২০ বলে ১ ছক্কায় ২০ রান করা মাহমুদউল্লাহ।

উইকেটে আসেন নুরুল হাসান সোহান। তবে অ্যান্ড্রু টাইয়ের বলে ৩ রানে ধরা পড়েন মিচেল মার্শের হাতে। উইকেটে আসেন আফিফ। ১৭তম ওভারে সাকিবকে বোল্ড করে দেন হ্যাজেলউড। ৩৩ বলে ৩ চারে ৩৬ রানে ফিরে যান সাকিব। স্টার্ককে স্ট্রেইড ড্রাইভে দুই রান নিয়ে রানের খাতা খোলেন শামীম। ১৮তম ওভারের শেষ বলে তাঁকে বোল্ড করেন স্টার্ক। আফিফকে শেষ ওভারের চতুর্থ বলে বোল্ড করলেন স্টার্ক কিন্তু আম্পায়ার নো বল ডাকেন। ফ্রি হিটেও ক্যাচ দিয়েছিলেন আফিফ। অবশেষে ১৭ বলে ৩ চারে ২৩ রান করা আফিফকে শেষ বলে এসে বোল্ড করেন স্টার্ক। বাংলাদেশ করে ৭ উইকেটে ১৩২ রান।

বোলিংয়ে নেমেই প্রথম বলেই অ্যালেক্স ক্যারিকে (০) বোল্ড করে দেন মেহেদি হাসান। পরের ওভারের চতুর্থ বলে আরেক ওপেনার জস ফিলিপসকে (৯) স্টাম্পড করেন উইকেটকিপার সোহান, বোলার ছিলেন নাসুম আহমেদ।

তৃতীয় ওভারে মঞ্চে আসেন সাকিব। বোল্ড করে দেন মোইজেস হেনরিক্সকে (১)। ১১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড আর মিচেল মার্শ ব্যাট হাতে দাঁড়ালেও বাংলাদেশি বোলারদের সামনে টিকতে পারেননি তাঁরা। ২৩ বলে ১৩ রান করা ম্যাথু ওয়েডকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নাসুম আহমেদ। লেগ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল পুল করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে মুস্তাফিজের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন ওয়েড। ৪৪ বলে ৪র্থ উইকেট জুটিতে আসে ৩৮ রান। ৪৯ রানে ৪র্থ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। সেই নাসুমের বলেই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের অর্ধেক শেষ হয়। তাঁর বলে ৭ রানে হিট উইকেট হয়ে যান অ্যাস্টন আগার।

এরপর মিচেল ৪৫ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ৪৫ রান করা মার্শকে ফিরিয়ে চতুর্থ শিকার ধরেন নাসুম। তাঁর বলে অসাধারণ ক্যাচ নেন শরীফুল। ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে নাসুমের শিকার ৪ উইকেট। অ্যাস্টন টার্নারকে (৮) মাহমুদউল্লাহর তালুবন্দি করে অজিদের সপ্তম উইকেটের পতন ঘটান মুস্তাফিজ। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ১০২ রানে অজিদের ৮ম উইকেটের পতন ঘটে শরীফুলের বলে। লং অফ থেকে অ্যান্ড্রু টাইয়ের (০) ক্যাচটি নেন নাঈম শেখ। একই ওভারের পঞ্চম বলে অ্যাডাম জাম্পাকে (০) আফিফের তালুবন্দি করেন শরীফুল। শেষ বলে মিচেল স্টার্ককে (১৪) বোল্ড করে দেন মুস্তাফিজ। ১০৮ রানে প্যাকেট হয় অস্ট্রেলিয়া।

২৩ রানে ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ। ম্যান অব দা ম্যাচ হন নাসুম আহমেদ। বিশেষ পুরস্কার পান সাকিব আল হাসান।

এএইচ/জেইউ 


oranjee