ঢাকা, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২০ | ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

 
 
 
 

ভারতের সংবিধান থেকে 'সমাজতান্ত্রিক' ও 'ধর্মনিরপেক্ষ' শব্দ বাদ দেয়ার দাবী

সংবিধান থেকে শব্দ দু'টি বাদ দেয়ার দাবীতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করলেন বলরাম সিং ও করুণেশ কুমার শুক্লা নামে দুই আইনজীবী

গ্লোবালটিভিবিডি ৭:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০২০

ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে ‘আমরা, ভারতের সমস্ত নাগরিক, ভারতকে একটি সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ...’৷ কিন্তু এবার ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে সেই 'সমাজতান্ত্রিক' এবং 'ধর্মনিরপেক্ষ' শব্দ দু'টি বাতিল করার দাবী উঠল। শুধু দাবীই নয়, ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে রীতিমতো দায়ের হল মামলা। সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদনে বলা হয়েছে, এই দু'টি শব্দ ভারতের ঐতিহ্যের পরিপন্থী এবং বামপন্থী ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।

মামলাটি করেছেন বলরাম সিং ও করুণেশ কুমার শুক্লা নামে দুই আইনজীবী। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন প্রবেশ কুমার নামে আরেকজন ব্যক্তি। এবারই অবশ্য প্রথম নয়, এর আগে ২০১৬ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টেও একই দাবি নিয়ে দায়ের হয়েছিল মামলা। কিন্তু সেই মামলাটি গ্রহণ করেনি আদালত।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে সংবিধানের ৪২তম সংশোধনী হিসেবে ২(এ) ধারা অনুযায়ী প্রস্তাবনায় এই শব্দ দু'টি যোগ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ক্ষমতায় এসেই সরকারি বিজ্ঞাপনে সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে বেমালুম গায়েব হয়ে গিয়েছিল এই দু’টি শব্দ যার জেরে বিতর্কের মুখে পড়েছিল মোদী সরকার। ২০১৫ সালে প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে যে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল, সেখানেও সংবিধানের প্রস্তাবনার অংশটি উদ্ধৃত করা হলেও তা থেকে বাদ পড়েছিল সমাজতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শব্দ দু’টি৷

অভিযোগ উঠে যে, সংবিধানকে এই ভাবে ভুল উদ্ধৃত করা নিছক অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য হয়নি। বরং যে শব্দ দু’টি বাদ পড়েছিল তা যথেষ্ট তাত্‍পর্যপূর্ণ। মোদী সরকার তাদের নির্দিষ্ট এজেন্ডার সঙ্গে মিল রেখেই প্রস্তাবনার এই ‘সম্পাদিত’ রূপটি প্রকাশ করেছিল। সঙ্গে ওই বিজ্ঞাপনে ভারতীয়দের যে ছবি ছাপা হয়েছিল সেখানেও সকলেই হয় হিন্দু অথবা কোনও জনজাতির প্রতিনিধি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কেউ ছিলেন না।

এবার সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে দাবি করা হল, 'সংবিধানের প্রস্তাবনায় 'সমাজতান্ত্রিক' এবং 'ধর্মনিরপেক্ষ' শব্দ দু'টি যোগ করা সংবিধানেরই পরিপন্থী। এই শব্দ দু'টি আসলে সংবিধানেরই অনুচ্ছেদ ১৯(১)(এ) অর্থাৎ, বাক স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং অনুচ্ছেদ ২৫ অর্থাৎ, ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী।' মামলায় বলা হয়েছে, সংবিধানে এই শব্দ দু'টি কার্ল মার্কসের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়েই যোগ করা হয়েছে যা ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে একেবারেই মেলে না।

যদিও এর আগে বিতর্কের মুখে পড়ে মোদী সরকার বলেছিল, 'ভারতের সরকারের কাছে একটিই পবিত্র গ্রন্থ রয়েছে। তা হল ভারতের সংবিধান। ভারত সরকার সংবিধান অনুযায়ী কাজ করে।' কেন্দ্রীয় তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফে বলা হয়, সরকার সংবিধানের প্রথম প্রস্তাবনার প্রতিলিপি ছেপেছিল। ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক শব্দগুলো ১৯৫০ সালের প্রস্তাবনায় ছিল না। ১৯৭৬ সালে সংবিধানের ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে তা অন্তর্ভুক্ত হয়। ফলে এ নিয়ে বিতর্ক অনর্থক। ভারতে সরকারের চরিত্র সবসময়ই ধর্মনিরপেক্ষ ছিল ও থাকবে।

অথচ, এবার সুপ্রিম-মামলা নিয়ে শুরু হল শোরগোল। সূত্রঃ এই সময়।

জেইউ

 


oranjee