ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২০ | ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

 
 
 
 

জাহাজে অতিরিক্ত যাত্রী নিলে ব্যবস্থা : বিআইডব্লিউটিএ

গ্লোবালটিভিবিডি ১২:৪২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১৯

ছবি সংগৃহীত

জসিম উদ্দীন: শনিবার ৩ শতাধিক পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনগামী একটি বে-ক্রোজ জাহাজ আটকা পড়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের মাঝে।সেন্টমার্টিন যেতে ইচ্ছুক স্ব-পরিবারে রোবার ৩ফ্রেপরুয়ারি টেকনাফে ঘাটে চলে এসেছেন এমন অনেক পর্যটক জাহাজ আটকা পড়ার কথা শুনে কক্সবাজারে ফিরে যেতে দেখাগেছে।

শনিবার ২ ফেব্রুয়ারি সেন্টমার্টিনগামী বে-ক্রোজ একটি জাহাজ জেটিঘাট সংলগ্ন নাফনদীতে জেলেদের (বিহিঙ্গী জালে) ৩ শতাধিক পর্যটক নিয়ে ৬ঘন্টা আটকা থাকে। শনিবার ২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আটকে পড়া জাহাজটি প্রায় ৬ ঘন্টা পর বিকেল ৫টার দিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় কোস্টগার্ড সদস্যরা।

এ দিকে জাহাজ কতৃপক্ষ ভয়ের কোন কারণ নেই এমটা দাবি করলেও পর্যটকেদের মাঝে রীতিমত আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে টেকনাফ গিয়ে ফিরে এসেছেন ঢাকা মিরপুর ৩ থেকে সপরিবারে আগত ২২ জনের বিশাল একটি পরিবার। ওই পরিবারের টুটুল নামের এক পর্যটক জানান, যেখানে জীবনের নিরাপত্তা নেই যেখানে যাওয়ার কোন মানে হয় না। তাই আমারা টেকনাফ থেকে ফিরে এসেছি।
তিনি আরো জানান, আমাদের মত অনেকেই সেন্টমার্টিন যাওয়া থেকে বিরত থাকতে দেখেছি তারাও আমাদের মত হতাশ।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আসা পর্যটকদের অনেকেই সেন্টমার্টিন যাওয়া থেকে আপাতত নিজেদের বিরত রাখতে চান বলে জানিয়েছেন। সিলেট থেকে আগত লন্ডন প্রবাসী ফাহিম ও নাদীয়া নামের এক দম্পতি জানান, প্রথম বারের মত সেন্টমার্টিন যেতে তারা কক্সবাজারে এসেছিলেন, তবে এখন আর যাচ্ছেন না। জাহাজ আটকে পড়ার ভয়ে তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বান্দরবন যাবেন বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) টেকনাফ অঞ্চলের পরিদর্শক (পরিবহন) মো. হোসেন বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী নিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান গতকালের জাহাজ আটকে পড়ার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। জাহাজটির ধারণ ক্ষমতা ২৫১ জন হলেও জাহাজটিতে তিন শতাধিক পর্যটক ওঠানো হয়েছে। এ মৌসুমে শুরু থেকে জাহাজটি অতিরিক্ত পর্যটক পরিবহন করে আসছে। এর রুট পারমিট বাতিল করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জাহাজটিকে পরিবেশ দূষণের জন্য এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পর্যটক ফিরে যাচ্ছে কিনা এমন তথ্য আপাতত আমার কাছে নেই। তবে এই ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে সে জন্য আগেভাগেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


oranjee