ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১ |

 
 
 
 

কোম্পানীগঞ্জে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ৪ জন গুলিবিদ্ধ, আহত ৩৫

গ্লোবালটিভিবিডি ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের এই সংঘর্ষে চারজন গুলিবিদ্ধ এবং সবমিলে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন সাংবাদিকসহ ছয় জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর এ হামলার প্রতিবাদে কাদের মির্জা কোম্পানীগঞ্জে আজ শনিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছেন।

গুলিবিদ্ধরা হলেন- উপজেলার বড় রাজাপুর গ্রামের আবদুল ওয়াহিদের ছেলে সাইদুর রহমান (২৬), চরকাঁকড়া ইউনিয়নের সিরাজুল ইসলামের ছেলে নুরুল অমিত (২০), বসুরহাট পৌরসভার আবুল কালামের ছেলে রায়হান (২০) ও চরফকিরা ইউনিয়নের বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির (২৮)। অন্য আহতরা হলেন- চরফকিরা ইউনিয়নের মো. কাঞ্চন (৬০), মুছাপুর ইউনিয়নের আবুল খায়েরের ছেলে মাসুদ (২৫), চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আবদুস সাত্তারের ছেলে কামরুল হাসান (৩০), চরফকিরা ইউনিয়নের আবদুল মান্নানের ছেলে ফরহাদ (৪০), বসুরহাট পৌরসভার আদনান (২৪) ও মারুফ (২৫) প্রমুখ।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সেলিম বলেন, আহতদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ চারজনসহ গুরুতর আহত ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জা গত বৃহস্পতিবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দিলে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে চরফকিরা ইউনিয়নের চাপরাশিরহাট বাজারে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার বিকেলে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেন। পরে বাদলের অনুসারীরা চাপরাশিরহাট বাজারে মিছিল করতে গেলে কাদের মির্জার সমর্থকদের মিছিলের সঙ্গে ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। মিছিল দুইটি বাজার প্রদক্ষিণ করার সময় সবজি বাজারের সামনে মুখোমুখি হলে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ সময় অন্তত চারজন গুলিবিদ্ধ হন এবং সবমিলে অন্তত ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। 

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি জানান, খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। পরে ব্যর্থ হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাত-আট রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

এর আগে বিকেলে বসুরহাট পৌরসভা হলরুমে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কাদের মির্জা বলেন, ‘জনপ্রিয়তা মানুষের জন্য একটা কাল। এর ভুক্তভোগী আজ আমি। বড় নেতা থেকে ছোট নেতা সবাই আমার বিরোধিতা করছেন। সব শিয়ালের এক ডাক। যারা অপরাজনীতির সঙ্গে জড়িত তারা কবিরহাট থেকে লোক এনে কোম্পানীগঞ্জে রক্তপাত করার ষড়যন্ত্র করছে। আমি একজন অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক কর্মী। সবার মুখ বন্ধ হয়ে গেলেও আমি বলব।’

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে নোয়াখালী সদর উপজেলা, শহর আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।

শুক্রবার সকাল ১১টায় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু। এ সময় তিনি বলেন, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা প্রায় দুই মাস ধরে বিভিন্ন সভা, সমাবেশ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেলা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সম্পর্কে অশোভন বক্তব্য দিয়ে আসছেন। বিরোধী দলীয় মুখপাত্রের মতো মিথ্যা বিভ্রান্তিকর বিবৃতি দিয়ে আসছেন যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন নোয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম সামছুদ্দিন জেহান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান নাছের, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ইমন ভট্ট, যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হক বিপ্লব ও জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আসাদুজ্জামান আরমান প্রমুখ।

এএইচ/জেইউ 


oranjee

আরও খবর :