ঢাকা, বুধবার, ৪ আগস্ট ২০২১ |

 
 
 
 

নিজেকে যেভাবে ধ্বংস করি

গ্লোবালটিভিবিডি ১:২৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম : আজকের সামাজিক প্রেক্ষাপটে সমাজের অধিকাংশ মানুষই রয়েছে নানান অস্থিরতায়। কারো বাড়ি আছে কিন্তু বিশাল অট্টালিকা নেই। কারো অট্টালিকা আছে কিন্তু সেকেন্ড হোম নেই। কারো সবকিছুই আছে কিন্তু আদরের সন্তান কথা শোনে না। এ রকম নানাবিধ ইস্যুতে মানুষ হতাশায় নিমজ্জিত।

আর এরকম হতাশা, অস্থিরতার কারণগুলো অধিকাংশই নিজেদের অর্জন।

আমরাই এই অশুভ ও অকল্যাণকর মানসিকতা অর্জন করেছি। বিদ্যাপীঠসহ সমাজে চলতে-ফিরতে গিয়ে বহু মানুষের সঙ্গেই আলাপ-পরিচয় হয়ে থাকে। তবে সবার পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থান একই রকম হয় না। এতেই ঘটে বিপত্তি। যদি নিজেকে সেভাবে তৈরি না করা যায়, অর্থাৎ আমি কার সাথে চলব, কাদের সঙ্গে সম্পর্ক গভীরতায় নিয়ে যাব, সেক্ষেত্রে সর্বপ্রথম মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে পরিবারকে।

পারিবারিক স্তর বুঝে সন্তানকে সে রকম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে হবে। মানুষের মস্তিষ্কে হিংসা, অস্থিরতা, উচ্চাভিলাষ ও হতাশা ওতপ্রোতভাবে দানা বাঁধে বিদ্যাপীঠ থেকেই। আজকাল অনেক সন্তানকেই বলতে শোনা যায়, জম্মই দিয়েছ শুধু আর পারোনি কিছুই দিতে। ওমুক বন্ধুর বাবা তমুক গাড়ি কিনে দিয়েছে, তুমি তো পারোনি একটি মটর সাইকেলও কিনে দিতে। প্রিয় সন্তানের মুখে এরকম হতাশাজনক কথাও একজন সৎ পিতাকে দুর্নীতিপরায়ণ করে তুলতে সহায়তা করে থাকে। ঠিক এভাবেই পর্যায়ক্রমে মানবিক মূল্যবোধগুলো বিলীন হতে শুরু করে।

তাই, নিজেকে ধ্বংস করার কিছু উপায় হলো এমন সমাজের সঙ্গে তাল মিলাতে গিয়ে নিজ উপার্জন ক্ষমতার বাইরে গিয়েও সন্তানকে নামি-দামি স্কুলে ভর্তি করাব। অভিভাবকদের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করতে গিয়ে প্রায়ই নানান বাহারি আয়োজন করব। কর্মক্ষেত্রেও বন্ধুত্ব গড়তে গিয়ে নিজের চাইতেও উঁচুশ্রেণী কারো সঙ্গে সম্পর্ক করব। সব সময় ক্ষমতাবান ও আর্থিকভাবে অঢেল সম্পদশালী মানুষের সাথে মেলামেশা করব। নিজের সাইকেল কিনে দেয়ার ক্ষমতা নাই অথচ প্রাডোতে চড়া পিতার সন্তানের সঙ্গে নিজ সন্তানকে উঠবস করার কাজে উৎসাহিত করব।

মহিলাদের ক্ষেত্রে পাশের বাসার ভাবী কোথায় কোন মার্কেটে শপিং করে তা নিয়ে ভাবা, তার বেশভূষা অনুকরণ করা। হাল ফ্যাশন অনুযায়ী মাসে মাসে গহনা, শাড়ী কেনাকাটা করা। না করতে পারলে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করা। এরপরেও না দিতে পারলে ধনাঢ্য কারো সাথে পরকিয়ায় লিপ্ত হবার আকাঙ্ক্ষা করা। অনৈতিকতায় ধরা খেলে বা অবাঞ্ছিত চাহিদা পূর্ণ না হলে জিদ করে আত্মহত্যা করা।

ব্যাস, এই কয়েকটা বিষয় মেনে চলতে পারলেই নিজ জীবন ও পরিবার ধ্বংস করতে আর কিছু লাগবে না।

সুপ্রিয় পাঠক, এবার নিজ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা দিয়েই বিবেচনা করতে পারেন, নিজেকে ধ্বংস করবেন নাকি নিজ পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী নিজেকে পরিচালিত করবেন।

মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম : প্রতিষ্ঠাতা, দে-ছুট ভ্রমণ সংঘ।

এএইচ/জেইউ 


oranjee